মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পুনরায় খুলেছে বুধবার, শোক ও সংহতির মধ্য দিয়ে শুরু

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পুনরায় খুলেছে বুধবার, শোক ও সংহতির মধ্য দিয়ে শুরু
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার ১২ দিন পর রোববার (৩ আগস্ট) পুনরায় খুলেছে। কলেজ শাখার (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলেও এই দিনটি শুধুমাত্র শোক, স্মরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। পাঠদান কার্যক্রম আগামী বুধবার (৬ আগস্ট) থেকে শুরু হবে।

শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই স্কুলে এসে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে তারা শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে বাড়ি ফেরে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে দেখা গেল, ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ক্যাম্পাস ত্যাগ করছে। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত জানায়, "সকাল সাড়ে ৮টায় এসে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি, দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছি। এখন বাড়ি ফিরছি—আজ কোনো ক্লাস হয়নি"

জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল জানান, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনা করে শোক অনুষ্ঠান তিনটি ধাপে (সকাল ৯টা, সাড়ে ১০টা ও দুপুর ১২টা) আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামালউদ্দীন মিলনায়তনে দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠান চলাকালে পুরো হল শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ ছিল, শোকের গভীর ছায়া স্পষ্ট ছিল সবার চেহারায়।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল (অব.) নুরন নবী অনুষ্ঠানে বলেন, "২৭টি শিশু ও দুই শিক্ষকের মৃত্যু, পাঁচজন শিক্ষক ও ৩৩ শিক্ষার্থীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা—এই বেদনা আমরা কীভাবে মেনে নেব? একজন শিক্ষক দম্পতি তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। এই শোক কখনোই মিটবে না"

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম তার বক্তব্যে ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, "আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল সেই দিন। ভবন-১ থেকে দেখলাম আকস্মিক বিস্ফোরণ ও আগুন একটি শিশু ও শিক্ষিকার লাশ দেখে আমি হতবাক"। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দিয়ে বলেন, "ছোট শ্রেণির শিশুরা এখনো আতঙ্কে আছে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাও, শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াও"

অধ্যক্ষ আরও জানান, ট্রমায় আক্রান্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য তিন মাসব্যাপী কাউন্সেলিং চলবে। তবে বেশিরভাগ অভিভাবক চেয়েছেন স্কুল যেন স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে, যাতে শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক যোগাযোগ ও শিক্ষকদের সহায়তায় মানসিকভাবে শক্ত হতে পারে। এজন্যই ৬ আগস্ট থেকে ধীরে ধীরে পাঠদান পুনরায় শুরু হবে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য: দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩৫ জন (২৮ শিশু) এবং আহত ১৬৫ জন।

বিমানটি ২১ জুলাই প্রশিক্ষণকালে যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়ে স্কুল ভবনে আঘাত করে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিমানবাহিনী আহতদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে ।

এই পুনরায় খোলার দিনটি ছিল শোক, সংহতি ও পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ—যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একসাথে শোক ভার লাঘব করার চেষ্টা করেছে

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ