তুরস্কের প্রথম নারী এমিনে এরদোয়ান মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে গাজার শিশুদের জন্য কণ্ঠস্বর দিতে আহ্বান জানিয়েছেন

তুরস্কের প্রথম নারী এমিনে এরদোয়ান মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে গাজার শিশুদের জন্য কণ্ঠস্বর দিতে আহ্বান জানিয়েছেন
ছবিঃ গুগল থেকে নেওয়া

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের স্ত্রী এমিনে এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে একটি চিঠি লিখেছেন। গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পক্ষে সরব হওয়ার জন্য তিনি মেলানিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য এমিনে এরদোয়ান মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্যও একই ধরনের সমর্থন দেওয়ার জন্য মেলানিয়াকে অনুরোধ করেন।

গত শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এমিনে এরদোয়ান লিখেছেন, 'গাজা এখন যেন শিশুদের জন্য একটি সমাধিক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।' মেলানিয়া ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও লেখেন, 'এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠস্বর এবং শক্তি একত্র করতে হবে।' চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, 'গাজার হাজার হাজার শিশুর মৃতদেহে জড়ানো কাপড়ে 'অজ্ঞাতনামা শিশু' লেখা কথাগুলো আমাদের বিবেকে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।' তিনি আরও লিখেছেন, 'যেভাবে আপনি ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত শিশুদের জন্য সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন, গাজারের শিশুদের জন্যও একই রকম সংবেদনশীলতা দেখানো প্রয়োজন।' তুরস্কের প্রথম নারী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ করে গাজায় মানবিক সংকট সমাধানের জন্য সরাসরি মেলানিয়াকে আহ্বান জানান।

এই মাসের শুরুর দিকে মেলানিয়া ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি শিশুদের কথা বিবেচনা করার জন্য পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন, তবে তিনি কোন শিশুদের কথা বলেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তুরস্কের প্রথম নারী সাধারণত রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত থাকেন না। তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত কাজে বেশি সক্রিয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও তার পরিবেশ বিষয়ক কাজের প্রশংসা করেছেন। এমিনে এরদোয়ান এর আগেও বিশ্ব নেতাদের সহধর্মিণীদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছেন। ২০১৬ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার মানুষের পক্ষ থেকে বিশ্ব নেতাদের স্ত্রীদের কাছে তিনি চিঠি লিখেছিলেন। গত মার্চ মাসে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেও তিনি চিঠি লেখেন।

মেলানিয়াকে লেখা এই চিঠিটি এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিবেদন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্যানেল (আইপিসি) এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে। এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত ৬ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গ্রুপ হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। এ হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েল সেই দিন থেকেই গাজায় হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬২ হাজার ১২২ জন নিহত হয়েছেন।

গাজার বেশিরভাগ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ