একজন আনন্দময়ী ক্ষমতাধর নারীর প্রস্তাবে (দ্বিতীয় পর্ব)
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
একজন আনন্দময়ী ক্ষমতাধর নারীর প্রস্তাবে (দ্বিতীয় পর্ব)
(শাহজাদী নিশাত সুলতানা খানম-কে উৎসর্গীত)
আমি পরদিন আমার বড় বোনকে বললাম পারিবারিক ছবির বিষয়ে! তখন আমার বড় বোন এক বাক্যে না করে দিলেন ও বললেন আমি কারো সাথে ছবি উঠতে পারবোনা! আমার মোট তিনটা বোন,ছোট বোনটা দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় পৃথিবী ছেড়ে গেছেন! বড় বোন ও মেজো বোনের মধ্যে অন্তর্দন্দ্ব বিরাজমান রয়েছে। বর্তমান ছোট বোনকে বললাম সেই একই কথা! আমি আমার বোনদেরকে ইমোশনালি আঘাত করে বললাম হয়তো একদিন আমরা একেকজন একেক স্থানে চলে যাবো, বাবা-মা আমাদেরকে একসাথে দেখবেন। আবার আব্বা ও আম্মাকে আমরা একসাথে দেখবো? কে শোনে কার কথা, কার কি যায় আসে! সেদিন কেউ আমাকে, আমার কথাকে মুল্য দিলো না। আমি আমার মত করে আনন্দময়ীর সাথে কাব্যালাপচারিতা চালিয়ে গেলাম। পঁচিশে অক্টোবর ২০২২ ইং "ইদানিং প্রেম" এবং ছাব্বিশে অক্টোবর ২০২২ ইং "হাজার মাইল দুরে" ও "চাইযে তোমায় দেখতে" লিখে যথারীতি ইনবক্সে প্রেরণ ও ফেসবুকে পোস্ট করলাম। আনন্দময়ী আমার কবিতা গুলো পড়ে, কবিতা গুলোর উপজীব্য তাৎপর্যকে লালন করে মাঝে-মধ্যেই তার ইচ্ছে, আকাঙ্খা প্রকাশ করতেন। আনন্দময়ী একজন খান্দানী বনেদী পরিবারের রাজকুমারী। সুশ্রী, সুকেশী, সুহাসিনী, সুনন্দিনী বলতে গেলে একশোতে একশো পাওয়ার মত সুললনা! পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব বোধ থেকে ও আমার মনকে সম্মান পুর্বক সে ফ্যামিলি পিকচার চেয়েছেন! পরিবারের মুখোমুখি হয়ে আপন থেকে উন্মুক্ত প্রস্তাব দেওয়ার প্রত্যাশায়! কিন্তু তা হয়তো আমার ভাগ্য দোষেই সম্ভব হয়নি।
মাঝে কয়েকদিন বিষন্নতার বিষ বাষ্পে ভুগে ৩০ অক্টোবর ২০২২ ইং আরো একটি লেখা "ভুলোনা তুমি ভাবতে আমায়" কমপ্লিট করে ইনবক্সে প্রেরণ করে ভাবলাম আর এগোনো আমার জন্য ঠিক হবেনা। কিন্তু মনযে মানেনা! মাঝে কেটে গেলো কয়েকদিন। ৪ ঠা নভেম্বর ২০২২ ইং আনন্দময়ীর প্রতি লিখে ফেললাম "মনের গহীনে দিগন্তে" যথারীতি আগের মতই প্রেরন করে, ফেসবুকে পোস্ট করে লেখালেখি ও ইনবক্সে নজর দেওয়া বন্ধ করে দিলাম। এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিলাম। বাড়ীতে ফোন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকতে দেখে অপর জনেরা তা ব্যবহার করতে উদ্যোগ নিতে গেলে আমার ফেসবুক আইডিটা নষ্ট করে ফেলে। আমি কাউকে কিছুই বলিনি ভাগ্যের উত্থান-পতনকে মেনে নিয়ে আড়ালে-আবডালে থেকেছি। মনে ও হৃদয়ের গহীনে, ডায়রীর পাতায় রয়ে গেছে আনন্দময়ীর আকর্ষণে আবহে প্রস্তাবে লেখা কাব্যকথা মালা, কবিতা, আবেগ-অনুভূতির স্মৃতি বিজড়িত মুহূর্ত! তার সাথে দীর্ঘ দিন পর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে পরিচয় দিয়ে তার মুখোমুখি হওয়ার দুঃসাহস করে আবার পিছিয়ে এসেছি ফ্যামিলি পিকচার না দিতে পারার দুর্বলতায়। আনন্দময়ী আমার আহ্বানে প্রথমে সাড়া দিলেও মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক দুরে, বহু দুরে চলে গেছে কবি ও কবিতার পাশ কাটিয়ে!
ভালো থাকুক আনন্দময়ী তার প্রস্তাবে লেখা কবিতার শব্দ-বাক্য, শিরোনাম ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে তার প্রকৃত জনের কাছে !
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এসএম এম আকাশ