ছাত্র-বাসিন্দা সংঘর্ষের প্রতিবাদে সড়ক-রেল অবরোধ, শিবির-ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

ছাত্র-বাসিন্দা সংঘর্ষের প্রতিবাদে সড়ক-রেল অবরোধ, শিবির-ছাত্রজোটের বিক্ষোভ
ছবিঃ দৈনিক বিজয় নিউজ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিক, একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। রোববার সকালে তারা পৃথকভাবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারাও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন হাটহাজারী যাওয়ার সড়কটি অবরোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মূল ফটক বন্ধ করে দেন। তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের দাবি তোলেন। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভূঞা অভিযোগ করেন, হামলার সময় প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি এবং নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন খান ও প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বিক্ষোভস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। প্রক্টর আরিফ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, গতরাতেই ঘটনাস্থলে তার একটি দল গেলেও স্থানীয়রা তার গাড়ি ভেঙে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য সময়মতো পাওয়া যায়নি। সহ-উপাচার্য অধ্যাপক খান জানান, তিনি নিজে পুলিশের সঙ্গে ৩০ বারেরও বেশি যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। উপাচার্য নিরাপত্তা বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং উচ্চপর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

অন্যদিকে, সকাল ৯টায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হয়ে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারা বেলা ১১টার দিকে তাদের কর্মসূচি শেষ করে।

সড়ক ও রেল অবরোধ: স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন সড়ক এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলমান ছিল।-এ গিয়ে দেখা যায়, দোকান ভাঙচুরের রয়েছে, রাস্তায় ইটের টুকরা ছড়িয়ে আছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির একটি ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাস পড়ে রয়েছে।

গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি ভবনের দারোয়ানের সঙ্গে এক ছাত্রীর বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে মাইকে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এতে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, আহতদের মধ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বাকিরা লাঠি, কাঠ ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ