নাইক্ষ্যংছড়ি'র ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যানের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নাইক্ষ্যংছড়ি'র ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যানের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

দৈনিক বিজয় নিউজ  নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী ইউনিয়নের ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মা’র বিরুদ্ধে জায়গা দখল, ভূয়া রিপোর্ট, ভিন্নভাবে প্রান-নাশের হুমকির পাহাড় সমান অভিযোগ উঠেছে। তার অত্যাচারের অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উক্ত মৌজা ২৮০/২৮১/২৮২ মৌজার বাসিন্দারা। জানা যায়, মংথোয়াইলা হেডম্যান  নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ২৮০নং আলিক্ষ্যং মৌজা ২৮১নং কৈয়ারঝিরি মৌজা ২৮২নং কামিরছড়া৷ মৌজা বাসিন্দারা স্বৈরাচার সরকার হইতে এই পর্যন্ত প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবার জন্য সামাজিকভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে দারস্থ হলেও ওর থেকে বাঁচার জন্য এই পর্যন্ত কেউ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আলীক্ষ্যং মৌজার স্থানীয় তামাক চাষী আরফান, আব্দুর রশিদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেক কে বলেন আমাদের প্রত্যেক তামাক চুল্লী থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছে।

আরো জানা গেছে, তিনি ২৭৮ নং বাইশারী মৌজার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পরও তিনি আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান। ২০১৪ সালে হেডম্যান নিয়োগ পাওয়ার পরপরই তিনি নিজের ভোটার পরিচয় পরিবর্তন করে আলীক্ষ্যং মৌজার বাসিন্দা হিসাবে নিজেকে দেখালেও বর্তমানে কক্সবাজার জেলার ঈদগড় ইউনিয়নে বৈদ্যপাড়ায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। তিনি বাইশারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১১,২১৯ একর জায়গা জুড়ে আলীক্ষ্যং মৌজার এলাকা, এরমধ্যে ৭০০ একর জায়গা বন বিভাগের। রাবারের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা ৮১ টি প্লটের মধ্যে ৫ টি বাতিল ও ৩২ টি মেয়াদ উত্তীর্ণ। তবে অধিকাংশ জায়গা বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে রাবার প্লট তৈরি করেছেন হেডম্যান মংথোয়াইলা, ফলে স্থানীয় পাহাড়ীরা চাষাবাদ করতে পারছেনা। কামিয়াছড়া মৌজার মাছিবর পাড়ার স্থায়ীয় বাসিন্দা চাইসুইচিং মার্মা বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে চাষাবাদ করে আসছি কিন্তু কয়েক বছর ধরে হেডম্যানের ক্যাডার জয়নাল ও তার ভাই হেলাল আমাদের জায়গাগুলো দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগেও তাদের যোগসাজশে কয়েক দফায় ডাকাতি হওয়ার পর এই গ্রাম থেকে সবাই পালিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে আমার বড় ছেলে উখ্যা মার্মাকে হেডম্যান ফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। ডাকাতি ও প্রাণনাশের হুমকির কারনে ১৩ মাস বোনের বাড়িতে আমরা আশ্রয় নিয়েছিলাম। স্থানীয়রা জানায়, অভিনব কৌশলে স্থানীয়দের জায়গা দখল করছে হেডম্যান, তিনি আলীক্ষ্যং মৌজার সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মার সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনেকগুলো ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। গত বছরে ১০ অক্টোবর সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মা’র জাল সিল স্বাক্ষরসহ ধরা পড়ে হেডম্যানের মুহুরি আব্দুর রশিদ ও জয়নাল আবেদীন।

২৮১ নং কৈয়ারঝিরি মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো বলেন ম্যাপ সিটে  কৈয়ারঝিরি মৌজা, নির্ধারণ করার পরেও আমার মৌজায় এসে আমার জায়গা দখলসহ আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে, এবং পাহাড়ে বসকারীদের থেকে চাঁদা দাবি করে চাঁদা না দিলে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, গত বছর মংথোয়াইলা হেডম্যানের মুহুরিকে জাল সিল স্বাক্ষরসহ হাতেনাতে আটক করার পর ৪টি হেডম্যান রিপোর্ট ও সাবেক হেডম্যানের সিল স্বাক্ষরগুলো আগুন পুড়িয়ে দিয়ে মুছলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মা বলেন, আমি বান্দরবানে রাজার বাড়িতে পড়াশোনা করেছি, আমাকে হেডম্যান বানানো হয়েছে। তবে আমি কারো জায়গা দখল ও ফোনে হুমকি দেয়নি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মংথোয়াইলা হেডম্যান এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।