জাকসু নির্বাচনে ব্রেইল ব্যালট নেই, বিপাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা
দৈনিক বিজয় নিউজ সাভার প্রতিনিধিঃ
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ১০টা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের নিচতলার করিডোরে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আকুতি ভরা কণ্ঠে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এগিয়ে যেতেই ওই শিক্ষার্থীকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ‘দেখো না, কেউ আছে কি না। একটু তাড়াতাড়ি আসলে ভালো হয়।’
ওই শিক্ষার্থীর নাম তরিকুল ইসলাম। তিনি ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষ (৫৩তম ব্যাচ) এর শিক্ষার্থী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তাকে এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তরিকুল ইসলাম জানান, ২৭ আগস্ট জাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্রেইল পদ্ধতি চালুর জন্য অনুরোধ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। গত বুধবারও একই দাবি জানানো হয়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ব্রেইল পদ্ধতি চালু করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
তরিকুল ইসলামের দাবি, ক্যাম্পাসে তার মতো ৬০ থেকে ৭০ জন ভোটার আছেন। সবাইকে ভোট দিতে অন্যের সহায়তা নিতে হবে। কিন্তু বিশ্বস্ত কাউকে না পেলে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে এমন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর পর জাকসুতে ব্রেইল পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারতেন।
এ বিষয়ে জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহা সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিশ্বস্ত কাউকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে পারবেন—এমন সুযোগ রাখা হয়েছে। সেভাবেই তারা ভোট দিচ্ছেন। তবে তাদের একটু সমস্যা হচ্ছে, এটা ঠিক। তিনি নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শহীদ সালাম বরকত হল কেন্দ্রে এক পরিচিত ব্যক্তির সহায়তায় তরিকুল ইসলাম নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ইসহাক রনি