সংসদীয় আসন নিয়ে ভাঙ্গায় ভাঙচুর: ইসিতে ডিসির চিঠি, ‘ফ্যাসিস্ট’ ধরতে চান ডিআইজি

সংসদীয় আসন নিয়ে ভাঙ্গায় ভাঙচুর: ইসিতে ডিসির চিঠি, ‘ফ্যাসিস্ট’ ধরতে চান ডিআইজি
ছবিঃ মোস্তফা কবির সংগ্রহীত

দৈনিক বিজয় নিউজ ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ফরিদপুর-২ ও ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে আলাদা করে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে ফরিদপুরে। এ আন্দোলনকে ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের হামলায় ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, তিনি এই ‘ফ্যাসিস্ট’দের আইনের আওতায় আনতে চান।

ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত রাখার আবেদন করে ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর গত সোমবার একটি চিঠি দিয়েছেন ডিসি মো. কামরুল হাসান মোল্লা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকাশের পর থেকেই ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ভাঙ্গা থানা, হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ডিসি তাঁর চিঠিতে আরও লিখেছেন, এই সিদ্ধান্তে ফরিদপুর-৪ ও ফরিদপুর-২ আসনের সাধারণ মানুষই ক্ষুব্ধ এবং এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই তিনি ইউনিয়ন দুটিকে পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত করে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।

আন্দোলনের সময় সহিংসতায় ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ, ইউএনও কার্যালয়সহ অন্তত ২০টি সরকারি দপ্তর ও ২টি থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। গতকাল রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা ফ্যাসিস্ট, তাদের আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় আনব। ইতিমধ্যে আমি তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি।’

হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সকালে বলেন, তাদের টহল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, কারণ একটি অ্যাম্বুলেন্স, তিনটি গাড়ি ও সার্জেন্টদের মোটরসাইকেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেসবুক বার্তায় ভাঙ্গাবাসীর পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলাসহ ফরিদপুর-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা; চেয়ারম্যানসহ সব আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া; নিরীহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা; নতুন করে কোনো মামলা না দেওয়া এবং রাতের বেলায় প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ করা।

এদিকে, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেছেন, এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে উচ্চতর আদালতে রিট হয়েছে এবং আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এর শুনানি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেদিন ইতিবাচক ফল আসবে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী তারা একটি প্রতিবেদনও পাঠিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাবি আদায়ে ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা যাবে না এবং এমন উদ্যোগকে তারা প্রতিহত করবেন।

জেলা প্রশাসক গতকালের ঘটনাকে ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে জানান, এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভাঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোস্তফা কবির