বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় ড্রোন নজরদারি

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় ড্রোন নজরদারি
ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এবার ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য বিভাগ। দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশ অভয়াশ্রম বরিশালের মেঘনা ও সংলগ্ন নদ-নদীতে এই নজরদারি চালানো হবে।

গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশের নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন বা মজুত করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বরিশালের হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর থেকে ভোলার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত নদী এলাকায় স্থানীয় ও মৌসুমি জেলেরা ইলিশ শিকার করেন। এবার এই কাজ রোধে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মাঠে নামছে মৎস্য বিভাগ।

বরিশালের মেঘনা নদীর ৮২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আকাশ থেকে ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা হবে। এছাড়া নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যৌথ বাহিনীর কঠোর তৎপরতা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব পয়েন্টে অবস্থান নেবেন এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও অভিযানে যুক্ত করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকও থাকবেন সঙ্গে।

হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম নিশ্চিত করে জানান, অভিযান শুধু নদীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, হাটবাজার, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালগুলোতেও তল্লাশি ও নজরদারি চলবে।

তিনি আরও জানান, অভিযানে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। যৌথ বাহিনীতে থাকবেন কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা। সার্বক্ষণিক স্পিডবোট নিয়েও টহল চলবে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় আমরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছি। এবার সর্বশক্তি দিয়ে অভিযান পরিচালিত হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সরকার মেঘনা ও পার্শ্ববর্তী নদ-নদী নিয়ে গঠিত এই এলাকাকে দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে। এই অভয়াশ্রমের সীমানার মধ্যে রয়েছে কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, নয়ভাঙ্গুলী, গজারিয়া ও কীর্তনখোলা নদী।

বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে প্রায় সাড়ে চার লাখ জেলে ইলিশ আহরণ করেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় হাটবাজার, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালেও এবার কঠোর অভিযান চলবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৩-০৪ সাল থেকে জাটকা রক্ষার কর্মসূচি শুরু হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে-পরে ১১ দিন মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায়, শুধু পূর্ণিমায় নয়, অমাবস্যাতেও ইলিশ ডিম ছাড়ে। তখন থেকে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মিলিয়ে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/