আল্লাহকে কোন নামে ডাকা উচিত নয়
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য সুন্দর নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁর পরিপূর্ণতা ও মহত্ত্বের প্রমাণ বহন করে। আমাদের কর্তব্য হলো—কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতিতে এ নামগুলোর প্রতি সঠিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা। এগুলোর কোনো ধরনের বিকৃতি, অস্বীকৃতি, মনগড়া ব্যাখ্যা বা সাদৃশ্য আরোপ করা যাবে না।
আল্লাহর সুন্দর নামে ডাকার নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা তাঁর সুন্দর নামগুলোতে তাঁকে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে:
“আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম; সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।” (সুরা আ‘রাফ, আয়াত: ১৮০)
অন্য আয়াতে এসেছে:
“বলুন, ‘তোমরা তাঁকে ‘আল্লাহ’ বলে ডাকো কিংবা ‘আর-রহমান’ বলে ডাকো—যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।’” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১১০)
“তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দর নামসমূহ।” (সুরা ত্বাহা, আয়াত: ৮)
“তিনি আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।” (সুরা হাশর, আয়াত: ২৪)
এছাড়া আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেছেন:
“আর যারা আমার নামসমূহের ব্যাপারে বাঁকা পথ অবলম্বন করে, তাদের পরিহার করো; তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শিগগিরই পাবে।” (সুরা আ‘রাফ, আয়াত: ১৮০)
এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, আল্লাহকে এমন নামে ডাকা নিষিদ্ধ, যা কোরআন বা হাদিসে উল্লেখ নেই। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে বা মনগড়াভাবে নাম প্রদান করে, তাদের জন্য শাস্তির ঘোষণা রয়েছে।
আল্লাহর নামে বাঁকা পথ: তিনটি রূপ
তাফসিরে আহসানুল বায়ান ও ফাতহুল কাদিরে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর নামে বাঁকা পথ অবলম্বন তিনভাবে হতে পারে:
১. নাম বিকৃত করা: যেমন মুশরিকরা ‘আল্লাহ’ নামকে বিকৃত করে ‘লাত’ এবং ‘আল-আযিয’ থেকে ‘উযযা’ নাম সৃষ্টি করেছিল।
২. মনগড়া নাম সংযোজন: আল্লাহকে এমন নামে ডাকা, যা তিনি নিজে দেননি বা রাসুল (সা.) সত্যায়িত করেননি।
৩. নাম কমিয়ে দেওয়া: শুধুমাত্র ‘আল্লাহ’ নাম ব্যবহার করে তাঁর অন্যান্য গুণবাচক নামগুলো উপেক্ষা করা। (ফাতহুল কাদির, ২/৩২১)
অনেকে শুধু ‘আল্লাহ’ নাম ব্যবহার করেন এবং ‘আর-রহমান’, ‘আর-রহিম’, ‘আল-গফুর’ ইত্যাদি গুণবাচক নামে ডাকতে অনীহা দেখান। অথচ আল্লাহর একশতেরও বেশি সুন্দর নাম কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহর কিছু সুন্দর নাম ও অর্থ
১. আর-রহমান – পরম দয়ালু, যাঁর দয়া সর্বব্যাপী।
২. আর-রহীম – অতি দয়াবান, বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণাময়।
৩. আল-গফুর – অত্যন্ত ক্ষমাশীল, বারবার ক্ষমা করেন।
৪. আস-সামī’ – সর্বশ্রোতা, সবকিছু শোনেন।
৫. আল-বাসীর – সর্বদর্শী, সবকিছু দেখেন।
৬. আল-হাকীম – পরম প্রজ্ঞাময়, সবকিছু হিকমতের সঙ্গে পরিচালনা করেন।
৭. আল-ওয়াদūদ – পরম স্নেহশীল, ভালোবাসা দানকারী।
৮. আল-কাদীর – সর্বশক্তিমান, সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
৯. আস-সালাম – শান্তির আধার, যিনি সকল ত্রুটি ও বিপদ থেকে মুক্ত।
১০. আস-সামাদ – চিরঅমুখাপেক্ষী, সকলেই তাঁরই মুখাপেক্ষী।
সুন্দর নামের উসিলায় দোয়া
আল্লাহকে তাঁর সুন্দর নামের উসিলা দিয়ে ডাকলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
-
বিপদে: ইয়া লতীফ – হে সূক্ষ্মদর্শী, আমাকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করুন।
-
রিজিকের জন্য: ইয়া রাজ্জাক – হে রিজিকদাতা, আমাকে হালাল রিজিক বৃদ্ধি দিন।
-
জ্ঞানের জন্য: ইয়া ‘আলীম – হে সর্বজ্ঞ, আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন।
-
ক্ষমার জন্য: ইয়া গফুর – হে ক্ষমাশীল, আমার গুনাহ মাফ করুন।
-
আরোগ্যের জন্য: ইয়া শাফী – হে আরোগ্যদানকারী, আমাকে সুস্থতা দান করুন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন:
“আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে (মুখস্থ করবে, বুঝবে ও অনুশীলন করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৭৭)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘গণনা করা’ বলতে এখানে নামগুলো মুখস্থ করা, অর্থ বুঝা ও অনুযায়ী আমল করা বোঝানো হয়েছে।
কোন নামে আল্লাহকে ডাকা উচিত নয়
আল্লাহকে এমন নামে ডাকা নিষেধ, যা কোরআন বা হাদিসে উল্লেখ নেই, কিংবা মনগড়াভাবে তৈরি। আল্লাহ নিজে তাঁর নাম কী হবে তা নির্ধারণ করেছেন, তাই আমাদের কর্তব্য হলো সেগুলোই ব্যবহার করা। আল্লাহর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথ অবলম্বন করা গুরুতর অপরাধ। তবে অজ্ঞতাবশত ভুল করলে এবং পরে সংশোধন করলে আল্লাহ ক্ষমাশীল। আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা, বিকৃত করা বা সাদৃশ্য নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ইসমত আরা