কুয়াশায় মোড়া পাবিপ্রবি: শীতের আগমনী হাওয়া

কুয়াশায় মোড়া পাবিপ্রবি: শীতের আগমনী হাওয়া
ছবিঃ আবদুল্লাহ আল মামুন

দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(পাবিপ্রবি) প্রভাতবেলা। চারপাশে ঘন কুয়াশার নরম চাদর, গাছের ডালে শিশিরবিন্দু ঝুলে আছে মুক্তার মতো। ভোরের আলো ফুটতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন এক অন্য রূপে সেজে ওঠে। সবুজ ঘাসে শিশিরের ঝিকিমিকি, ফুলে-ফলে জমে থাকা জলকণায় প্রতিফলিত সূর্যের কিরণ—সব মিলিয়ে এক অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য। শীতের আগমনী বার্তা এখন পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। একাডেমিক ভবনগুলো যেন কুয়াশার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোনো রূপকথার প্রাসাদ। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ, মাঝখানে শিক্ষার্থীদের চলার পথ—সবকিছুই যেন স্বপ্নিল সৌন্দর্যে ভরপুর।

কুয়াশার ভেতর সকালের প্রাণচাঞ্চল্যে ভোরে উঠে। ভোরবেলা ক্যাম্পাসের পথে হাঁটলে দেখা যায়—অনেকে হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ নিয়ে ঘুরছেন। কারও মুখে শীতের হালকা ঠান্ডা স্পর্শে হাসির রেখা, কেউ আবার জড়িয়ে নেয় গরম চাদর। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী রুমন হোসেন বলেন,“ভোরবেলা মাঠে দাঁড়ালে মনে হয় প্রকৃতি যেন নতুন রঙে সেজেছে। এখন পাতা থেকে শিশির টুপটাপ করে পড়ছে, ঘাসে হাঁটলে জুতো ভিজে যাচ্ছে। এরকম পরিবেশ আমাদের পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করে দেয়।”

চা, আড্ডা আর পিঠার ঘ্রাণে জমে ওঠে শীতের সকাল।শীত মানেই চায়ের দোকানে ভিড়। পাবিপ্রবির ক্যাম্পাস গেটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমে ওঠে চায়ের আড্ডা। কেউ ক্লাস শেষে, কেউ বা ভোরবেলা উঠে গরম চা হাতে নিয়ে বসে যান বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে। সঙ্গে থাকে বিস্কুট, চিনাবাদাম আর হাসির ঝড় বিকেলের দিকে ক্যাম্পাস গেটের পাশে ভেসে আসে গরম পিঠার ঘ্রাণ। তিলপিঠা, ভাপা, চিতই-সবই যেন শিক্ষার্থীদের শীতের বাড়তি আনন্দ। কেউ আবার দূর গ্রামে ছুটে যান খেজুর রসের টানে।

শীতে জমে ওঠে সাংস্কৃতিক রঙে।শীতকাল এলেই বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রাণ ফিরে পায়। সংগীত, নাটক, কবিতা পাঠ, পিঠা উৎসব, বনভোজন- সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস ভরে ওঠে আনন্দে। বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, আর শিক্ষার্থীরা তাতে অংশ নিয়ে মেতে ওঠেন উৎসবে। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, “গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মন বসাতে কষ্ট হয়। কিন্তু শীতের সকালে লাইব্রেরিতে বসলে অন্যরকম শান্তি লাগে। চারপাশ নীরব, শুধু বইয়ের পাতার শব্দ। মনে হয় পুরো ক্যাম্পাসটাই যেন এক নিরিবিলি পাঠশালা।”

ক্যাম্পাস ঘিরে শীতের আনন্দ। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ক্যাম্পাস সংলগ্ন গ্রামের মানুষও উপভোগ করেন এই শীত। কেউ বলেন, শীত তাদের জন্য আশীর্বাদ, আবার কারও কাছে এটি কষ্টের মৌসুম। তবে সবাই একমত শীতের পাবিপ্রবি সত্যিই অন্যরকম সুন্দর। ছুটির দিনে অনেক দর্শনার্থী পরিবার নিয়ে আসেন ক্যাম্পাস দেখতে। কেউ হাঁটেন কুয়াশায় মোড়া পথ ধরে, কেউ আবার ছবি তুলতে ব্যস্ত। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবাই যেন খুঁজে পান একটুখানি প্রশান্তি।

রূপকথার মতো এক মৌসুম শীত। পাবিপ্রবির জন্য কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং এক রূপকথার মতো মৌসুম। কুয়াশায় ঢাকা একাডেমিক ভবন, শিশিরে ভেজা ঘাস, চায়ের ধোঁয়া, আর শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক জীবন্ত শীতের গল্প। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষ। সবাই এই শীতের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। যেন পুরো পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস বলছে, “শীত এসেছে, প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে।”

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়