রাজশাহীর মোহনপুর–বাগমারা সংযোগ সেতু: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান

রাজশাহীর মোহনপুর–বাগমারা সংযোগ সেতু: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভা থেকে বাগমারা উপজেলার মচমইল বাজার পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট অবশেষে কাটতে যাচ্ছে। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘গ্রামীণ সড়ক সংযোগ সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ (SupRB) এর আওতায় এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। SupRB-Raj-Replace/23-24/W-518 প্যাকেজের আওতাধীন এ সেতুটি মোহনপুর-বাগমারা সংযোগ পথে নির্মিত হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি, মোহনপুর উপজেলা, রাজশাহী। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক।

এলাকাবাসী জানান, এতদিন একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করতে হতো। স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম (৫৫) বলেন, “উপযুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের ব্যবসায় লোকসান হতো। বাজারে ফসল নিয়ে যাওয়া কষ্টকর ছিল। বর্ষায় নৌকায় পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। এখন সেতু হওয়ায় অনেক স্বস্তি পাবো।” শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও ছিল চোখে পড়ার মতো। সামিয়া আক্তার (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে চলাচল করতাম। বর্ষায় অনেক সময় ক্লাস মিস করতে হতো। সেতু হওয়ায় এখন নিয়মিত স্কুলে যেতে পারবো।” কৃষক মোহাম্মদ আলী (৬০) বলেন, “ফসল সহজে বাজারে নিতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তাম। নতুন সেতু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাবে।”

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “সেতুর অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, যা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। SupRB প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে।” উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ মিটার এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার ২২৭ টাকা। তিনি বলেন, “আমরা মানসম্পন্ন নির্মাণ নিশ্চিত করেছি, যাতে সেতুটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।” স্থানীয় এক রাজনীতিবিদ বলেন, “এই সেতু নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।” তবে এলাকাবাসী ভবিষ্যতে সংযোগ সড়ক আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন। সেতুটি মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।”

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন