দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে

বরিশালে আদালতে হট্টগোল

দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ, বরিশাল নগর, ২৫ ফেব্রুয়ারি ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশালঃ

বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে আদালত চত্বর থেকে তাকে আটকের পর এজলাসে হট্টগোলের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এস এম শরীয়তউল্লাহ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সাদিকুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে এজলাস ভাঙচুর, আদালত অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুর এবং বিচারককে অপমানের ঘটনায় বুধবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এবং দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা করা হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে প্রধান আসামি এবং সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলামকে ২ নম্বর আসামি করে মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই বিএনপিপন্থী আইনজীবী বলে জানা গেছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই দিন আসামিরা এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল নষ্টসহ আদালত এলাকায় শক্তির মহড়া ও ত্রাস সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে তারা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিচারককে অপমান, কাজে বাধা প্রদান এবং আইনগত সহায়তা না দেওয়ার হুমকি ও আক্রমণ করার অপরাধ সংগঠিত করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। এ সময় আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) ও আদালত পুলিশের তিন কনস্টেবলের উপস্থিতিতে দুজন আইনজীবী শুনানি করছিলেন। হঠাৎ দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে এজলাসকক্ষে ঢোকেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান। তার পেছনে ঢোকেন আরও কয়েকজন আইনজীবী। তারা এজলাসে বসার বেঞ্চগুলো হাত-পা দিয়ে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কাগজপত্র ছুঁড়তে থাকেন। সাদিকুর রহমান বিচারকের সামনে গিয়ে চিৎকার করে আঙুল তুলে কথা বলেন। তিনি বিচারকের সামনে থাকা একটি বেঞ্চে আঘাত করেন এবং বিচারকের উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। পরে তারা এজলাসকক্ষ ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এর আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিন পাওয়া অপর দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই