কেশবপুরে শনিবারেও স্কুল ফিডিং বরাদ্দের দাবি শিক্ষার্থীদের
দৈনিক বিজয় নিউজ কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে শনিবারেও স্কুল ফিডিং বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রোজা, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটির সৃষ্ট শিখন ঘাটতি পূরণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আজ শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) খোলা রাখা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আজকের পর আরও টানা ৯টি শনিবার পাঠদান কার্যক্রম চলবে। কিন্তু ছুটির দিনে বরাদ্দ না থাকায় শিক্ষার্থীরা দুপুরে খেতে পারেনি স্কুল ফিডিং এর খাবার। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক দশ শনিবারের ছুটি বাতিল করে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত ২৪ মার্চ দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১শ’ ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ খোলা রাখা হয়েছে। শিখন ঘাটতি ছুটির দিনেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস চলবে আরও ৯ শণিবার। সরেজমিন শনিবার (৪ এপ্রিল-২৬) সকাল থেকেই কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। শিক্ষকরা বাড়তি সময় দিয়ে পাঠদান করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পিছিয়ে পড়া পাঠ আয়ত্ত্ব করতে পারে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কালে বিরতির সময় সরকারী ভাবে স্কুল ফিডিং এর আওতায় দুপুরে নাস্তা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কেশবপুর উপজেলায় বেসরকারী সংস্থা সুশীলন প্রতিদিন ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে ফিডিং সরবরাহ করে থাকেন। সপ্তাহের রোব থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিডিউল অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করলেও শনিবার কোন খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের না খেয়ে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে।
আলতাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিসা তাজরিন ও ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সৌরভ দাস বলেন, বন্ধের দিন ক্লাস করতে তাদের ভালোই লেগেছে। তবে অন্যদিন দুপুরে নাস্তা দিলেও আজ শনিবার নাস্তা না দেওয়ায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়েছে। বেসরকারী সংস্থা সুশীলন এ উপজেলা ম্যানেজার ডি এম রাজু বলেন, সিডিউল অনুযায়ী বন্ধের দিন শনিবারের জন্য বরাদ্দ না থাকায় ফিডিং সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পুনরাদেশ পেলে সরবরাহ করা হবে। জিএম রাশেদ হোসেন নামে এক অভিভাবক সরকারের দুইটি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, স্কুল ফিডিং এ শিশু শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং বন্ধের দিন পাঠদানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কেশবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমোতারা খাতুন বলেন, রমজান মাসের দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণে শনিবারেও ক্লাস চালু রাখার উদ্যোগটি খুবই সময়োপযোগী। আমরা শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে বাড়তি সময় দিয়ে পাঠদান করছি। শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে। আশা করছি, নির্ধারিত এই অতিরিক্ত ক্লাসগুলো চালু থাকলে শিখন ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।
আলতাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বাবু বলেন, স্কুল ফিডিং চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। নির্ধারিত ১০টি শনিবারে ধারাবাহিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকলে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহীনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ছুটির দিনেও শ্রেণি কার্যক্রম চালু রেখে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দুপুরে অন্যদিনের মত শিক্ষার্থীদের ফিডিং বরাদ্দ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসের ছুটিজনিত শিখন ঘাটতি পূরণে উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবারেও পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদারকি করছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং সবাই আন্তরিকভাবে ক্লাস কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আশা করছি, নির্ধারিত ১০টি শনিবারের অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে। অন্যান্য দিনের ন্যায় শনিবারেও দুপুওে শিক্ষার্থীদের ফিডিং বরাদ্দের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ পরেশ দেবনাথ