গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রাজিলের আমাজনে বনভূমি উজাড়ের ঘটনা।

ভয়াবহ পর্যায়ে আমাজন বনভূমি

গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রাজিলের আমাজনে বনভূমি উজাড়ের ঘটনা।

গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রাজিলের আমাজনে বনভূমি উজাড়ের ঘটনা। এক বছরেই ব্রাজিলের এই বনাঞ্চল উজাড়ের হার বেড়েছে ২২ শতাংশ। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইএনপিই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে স্কটল্যান্ডের গস্নাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক কপ-২৬ সম্মেলনে প্রথম বৃহৎ কোনো চুক্তি হিসেবে বন উজাড় বন্ধের বিষয়ে একমত হন বিশ্বের শতাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে একমত হন তারা। সম্মেলনে বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলও ছিল।

জলবায়ু সম্মেলনের ওই চুক্তিতে ১৯ দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গড়ে তোলার প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বনাঞ্চল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে, দাবানল মোকাবিলায় এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ওই তহবিলের একাংশ খরচ করা হবে।

আমাজন বনাঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ প্রজাতির গাছ ও প্রাণী রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ আদিবাসী মানুষের বসতি সেখানে। কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতেও বড় ভূমিকা রাখছে বনাঞ্চলটি। এ ছাড়া সেখানে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ১০ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ সময়সীমায় আমাজনের বনাঞ্চলের প্রায় ১৩ হাজার ২৩৫ বর্গকিলোমিটার (পাঁচ হাজার ১১০ বর্গমাইল) এলাকার বন উজাড় হয়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে যা সর্বোচ্চ।

ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী জোয়াকিম লেইট বলেন, 'বন উজাড়ের এই তথ্য আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এসব অপরাধ প্রতিরোধে আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।'

ব্রাজিলে বনভূমি ধ্বংস বেড়েছে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে। আমাজনে বন কেটে চাষাবাদের ওপর জোর দিয়ে আসছেন তিনি। তৎপর হয়েছেন এই অঞ্চলের খনিজসম্পদ আহরণের বিষয়েও। বন উজাড় প্রসঙ্গে ইএনপিইর সঙ্গেও বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন বলসোনারো। ২০১৯ সালে তিনি অভিযোগ আনেন, ইএনপিই ব্রাজিলের সুনাম নষ্ট করছে।

দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল এলাকাজুড়ে আমাজন বনাঞ্চল বিস্তৃত। এই বনভূমির বিশাল অংশ ব্রাজিলের মধ্যে পড়েছে এবং সেখানে বনের গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

উলেস্নখ্য, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন স্পষ্ট। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নিয়মিত দাবদাহ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও। এ ছাড়া বনের গাছ কেটে ফেললে সেটিও জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। কারণ গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বিপুল পরিমাণে বন উজাড় হলে বায়ুতে ক্ষতিকর এই গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর তাই আমাজনে বন উজাড়ের এই ঘটনা পুরো বিশ্বের জন্যই চ্যালেঞ্জ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ডব্লিউবি