রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত

রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত
ছবিঃ মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট

দৈনিক বিজয় নিউজ সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে সিরাজগঞ্জের রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে ৪–০ গোলের ব্যবধানে নবম শ্রেণিকে পরাজিত করে দশম শ্রেণি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কামাল পাশা, শাহ আলম সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

খেলার প্রধান রেফারি হিসেবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক মো. মঞ্জুর হোসেন। সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক পুলক চট্টোপাধ্যায় ও আবু হানিফ মণ্ডল। খেলা শুরুর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছারোয়ার হোসেন খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, খেলাধুলা পড়াশোনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলারও প্রয়োজন রয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, আজকের প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য শুধু জয়-পরাজয় নয়; শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মাঠ সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন খেলা শুরুর আগে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যকালে দৈনিক আমার সিরাজগঞ্জ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সজীব হোসেন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন করেন।

জবাবে প্রধান শিক্ষক মো. ছারোয়ার হোসেন বলেন, ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠের কিছুটা সংস্কার করা হলেও তা এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ভবিষ্যতে মাঠটি আরও সংস্কার করা হবে, যাতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় এবং শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলা করতে পারে।

তিনি বলেন, এর আগে মাঠে অনেক বালু ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সেই বালু ধুয়ে গিয়ে মাঠ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই পরবর্তীতে বালুর পরিবর্তে এঁটেল মাটি দিয়ে মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মাঠটি আরও টেকসই হবে এবং ছেলে-মেয়েরা ভালোভাবে খেলাধুলা করতে পারবে।

মাঠ সংস্কারের বিষয়ে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব পুকুর রয়েছে। পুকুরটি শুকিয়ে সেখান থেকে মাটি তুলে মাঠে এঁটেল মাটি দিয়ে সংস্কার করা হলে মাঠটি আরও ভালো ও টেকসই হবে। এতে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সমস্যাও কমবে। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট