চাঁদা না দেওয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রকৌশলীর দপ্তরের কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য

চাঁদা না দেওয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রকৌশলীর দপ্তরের কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের চলমান সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও পরবর্তীতে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী দাবি করেছেন, সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারের কাছে গিয়ে ‘তেল খরচ’ বাবদ টাকা দাবি করেন। প্রত্যাশিত অর্থ না পেয়ে পরবর্তীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের হুমকি এবং অফিসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার একটি সড়কের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দপ্তরকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রিপন আলী সরকার বলেন, “সড়কটির নির্মাণকাজ চলমান। কাজে কোনো প্রকার ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে আমাদের জানালে আমরা কাজটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাংবাদিক পরিচয়ে এক শ্রেণির ব্যক্তি কাজের বিষয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করে ঠিকাদারকে বলেন, তাদের চেম্বারে গেলে ‘তেল খরচ’ দেওয়া হয়। রিপন আলী সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি ঠিকাদারের চেম্বারে গিয়ে প্রত্যাশিত অর্থ না পেয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মুঠোফোনে কল করেন এবং বিষয়টি নিয়ে জানতে চান। এ সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিকেই পরবর্তীতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে নিউজ করার হুমকি দেওয়া হয় এবং বিষয়টি মীমাংসার নামে অফিসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দেওয়ায় সামগ্রিক ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন করে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে তা যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইভাবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন