কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন: কারাগারে উপচে পড়া ভিড়, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ২৭ কিশোর

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন: কারাগারে উপচে পড়া ভিড়, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ২৭ কিশোর
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডব ও অপরাধের সাম্রাজ্য চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারিমূলক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরী থেকে শুরু করে জেলার ১৮টি উপজেলায় একযোগে চালানো সাঁড়াশি অভিযানে আটক হয়েছে দুই সহস্রাধিক কিশোর ও তরুণ। এদের মধ্যে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে ২৭ জন কিশোরকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক অপরাধী কারাগারে ঢোকায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এখন উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে, যা স্পষ্টতই অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা। ​সাঁড়াশি অভিযানের নেপথ্য ও কঠোর হুঁশিয়ারি ​আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রকাশ্য সহিংসতা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশেষ করে একটি রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের আস্ফালন চরমে উঠলে প্রশাসন কঠোর বার্তা নিয়ে মাঠে নামে। এর অংশ হিসেবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে কুমিল্লাজুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।

​পুলিশের মিডিয়া সেলের কড়া বার্তা অনুযায়ী, ধারাবাহিক এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধীদের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ​অভিভাবকের জিম্মায় কড়া মুচলেকা: আটককৃতদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী হওয়ায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়ালে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন কড়া শর্ত ও মুচলেকা নিয়ে ১ হাজার ৪০৯ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ​সরাসরি বিচারিক পদক্ষেপ: সুনির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় ৬২৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় সোপর্দ করা হয়েছে। ​শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর: অভিযানকালে আটক হয়ে কারাগারে আসা কিশোরদের মধ্য থেকে যাদের জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আদালতের কঠোর আদেশে তাদের মধ্য থেকে ২৭ জনকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

​কারাগারের ভেতর বন্দির উপচে পড়া ভিড় ও বন্দিদশা ​হঠাৎ করে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক অপরাধী কারাগারে বন্দি হওয়ায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে চরম আবাসন ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের কঠোর ভাষ্য মতে, কারাগারটির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মতো হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দির সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনে। ​ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি গাদাগাদি করে থাকায় প্রচণ্ড গরমে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন মারাত্মকভাবে বাড়ছে, তেমনি অতিরিক্ত বন্দি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা প্রশাসনকে। তবে দ্রুত কারাগারের নতুন চারটি বহুতল ভবন চালুর মাধ্যমে এই চাপ কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। ​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পষ্ট হুশিয়ারি—কিশোর গ্যাং বা অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে এই অপরাধের বিষবৃক্ষ পুরোপুরি উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত অভিযান আরও কঠোরভাবে চলবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ