লাশের মিছিলে ভারী কুমিল্লার জনপদ: ক্ষেত-নদী আর সড়ক থেকে বাড়ছে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার, লালমাইয়ে কিশোরীর বিবস্ত্র লাশ ঘিরে চাঞ্চল্য

লাশের মিছিলে ভারী কুমিল্লার জনপদ: ক্ষেত-নদী আর সড়ক থেকে বাড়ছে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার, লালমাইয়ে কিশোরীর বিবস্ত্র লাশ ঘিরে চাঞ্চল্য
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লাজুড়ে যেন রহস্যজনক মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নদী তীর, চরের ডোবা কিংবা ফসলের মাঠ—কোথাও মিলছে না স্বস্তি। সর্বশেষ জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ক্ষেতের পাশ থেকে আনুমানিক ১৪-১৬ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরীর বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশেই পড়ে থাকা একটি চালকবিহীন পরিত্যক্ত সিএনজি অটোরিকশা এই হত্যাকাণ্ডকে আরও বেশি রহস্যঘেরা করে তুলেছে।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরেই কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে গোমতী নদীর পাড়, চরের ডোবা কিংবা বিভিন্ন উপজেলার নির্জন স্থান থেকে পুলিশ একাধিক অজ্ঞাত নারীর ভাসমান ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। একের পর এক এমন লোমহর্ষক ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে? আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কেন থামছে না এমন নৃশংসতা?

​লালমাইয়ের সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জগতপুর এলাকার একটি ক্ষেতের পাশে ওই কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। নিহতের শরীর পোশাকহীন ছিল এবং তার শরীরে পাশবিক নির্যাতন ও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে অন্য কোথাও কিশোরীকে ধর্ষণের পর ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে ঘাতকরা মরদেহটি এখানে ফেলে গেছে এবং পালানোর সময় সিএনজি অটোরিকশাটি ফেলে যায়।

​এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “নিহতের পরিচয় এখনো মেলেনি। আমরা প্রযুক্তির সহায়তা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট টিমের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

​এদিকে সচেতন মহল বলছেন, কুমিল্লায় এভাবে ধারাবাহিকভবে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এর পেছনে কোনো গভীর অপরাধচক্র বা সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের টার্গেট করে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মরদেহ ফেলে যাওয়ার এই প্রবণতা জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। দ্রুত এসব ঘটনার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ