কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, রণক্ষেত্র ছত্রখিল
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা মহানগরীতে দিনদুপুরে জোড়া অস্ত্রের ধারালো আঘাতে রক্তে ভেসে গেলেন যুবদল নেতা কাউছার। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গোমতী নদীর উত্তর পারের ছত্রখিল এলাকায় এই বর্বর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ট্রমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক এবং ওই ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবিরের ছোট ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের চাঞ্চল্যকর বিবরণ:
স্থানীয়রা জানান, কাউছার নিজ গন্তব্যে যাওয়ার পথে ছত্রখিল সংলগ্ন নির্জন রাস্তায় আগে থেকেই ওত পেতে ছিল ৪-৫ জনের একটি সশস্ত্র ঘাতক দল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকদের নির্মম কোপে কাউছারের চিৎকার ছড়িয়ে পড়লেও অস্ত্রের মহড়ার কারণে মুহূর্তেই এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে সিক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কাজ হাসিল করে সন্ত্রাসীরা দ্রুত সটে কেটে পড়ে।
হাসপাতালে হাহাকার, তীব্র ক্ষোভ:
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত কাউছারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা:
খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক চৌকস টিম তাৎক্ষণিকভাবে অকুস্থল ও হাসপাতালে অবস্থান নেয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আসল ক্লু উদঘাটন এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে ঘাতকদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি কোন্দল বা স্থানীয় বিরোধ—সবকটি দিককে সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় চরম অস্থিরতা ও থমথমে ভাব বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছত্রখিল ও আশেপাশের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে থিকথিক করছে অতিরিক্ত পুলিশ।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ