লন্ডনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বোট রেসিং অভিজ্ঞতা: কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে স্মরণীয় আয়োজন।
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:
বিডিএসইউএলের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী কার্যক্রম; অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকোর্টে কর্মরত দুই ব্যারিস্টার।লন্ডনের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বন্ধুত্ব, আনন্দ ও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এক ব্যতিক্রমী বোট রেসিং কার্যক্রম। ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের (ইউডব্লিউএস) লন্ডন ক্যাম্পাসভিত্তিক বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি (বিডিএসইউএল)-এর উদ্যোগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বিডিএসইউএলের সভাপতি আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ আয়োজনে সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাধারণ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। লন্ডনের ঐতিহাসিক ডকল্যান্ডস ও রয়্যাল ডকস এলাকার নৌ-ঐতিহ্যের আবহে আয়োজিত এ কার্যক্রম অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল এক নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
সকালের ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ে সদস্যরা যোগ দেন। আয়োজনের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, স্ট্রেচিং ও শারীরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে শুরু হয় মূল বোট রেসিং পর্ব। প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে অংশগ্রহণকারীরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন।পানিতে নৌকা চালানোর এই অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য ছিল আনন্দদায়ক ও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার তারেক ও ব্যারিস্টার লোকমান। তাঁরা লন্ডনে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশের হাইকোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়। অতিথিরা এ ধরনের ইতিবাচক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সুন্দর একটি সকাল উপহার দেওয়ার জন্য বিডিএসইউএল, ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাসের পুরো দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বোট রেসিং শেষে অংশগ্রহণকারীরা এক্সেল লন্ডন এলাকায় যান। সেখানে এক্সেল ভবন, লন্ডনের বিখ্যাত কেবল কার এবং আশপাশে অবস্থানরত জাহাজগুলো ঘুরে দেখেন। লন্ডনের আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ডকল্যান্ডস এলাকার নৌ-ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তাঁরা। এ সময় সদস্যরা দলগত ছবি তোলেন এবং দিনের বিশেষ মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখেন।
পরবর্তী সময়ে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সবাই একসঙ্গে পিৎজা ও পানীয় গ্রহণ করেন। এ সময় সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ভাগাভাগি করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুরো আয়োজনটি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়সর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বিডিএসইউএল টিমকে এমন চমৎকার অভিজ্ঞতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দিনটি তাঁর স্মৃতিতে বিশেষভাবে থেকে যাবে। পাশাপাশি সোসাইটির সভাপতির অবদান ও নেতৃত্বের প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিডিএসইউএলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আয়োজনটি সফল করতে সভাপতি আবদুর রহিমের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। এমন একটি সুন্দর কমিউনিটির অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।
সোসাইটির সদস্য মোশাররফ হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে পড়াশোনা ও কাজের ব্যস্ততার মধ্যে এ ধরনের আনন্দঘন সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না; তবে বিডিএসইউএলের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটালে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ভালোবাসা পাওয়া যায়, তা তাঁর পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ উন্নতির পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
বিডিএসইউএলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিনহাজ আহমেদ সভাপতি আবদুর রহিম, প্রশিক্ষক মিসেস নিসা এবং পুরো বিডিএসইউএল টিমকে এমন একটি অভিজ্ঞতা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দিনটিকে আনন্দ, সুন্দর স্মৃতি এবং ভালো মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতের আয়োজনগুলোতে আরও বেশি সদস্যের অংশগ্রহণের আশাও প্রকাশ করেন।
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিমালয় রাজ পাল এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সদস্যদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।আয়োজনের প্রশিক্ষক ও সমন্বয়ক মিসেস নিসার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিডিএসইউএলের সদস্যরা। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং পুরো আয়োজনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করে তোলে। মিসেস নিসাও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও পুরো আয়োজক দলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
বিডিএসইউএলের সভাপতি আবদুর রহিমের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কার্যক্রম প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্ব এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে ওঠে। শিক্ষাজীবনের ব্যস্ততার বাইরে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন পরিবেশে সময় কাটানো, পরিচিতির পরিধি বাড়ানো এবং লন্ডনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করে।
কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে শুরু হওয়া এ আয়োজন শেষ হয় আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের কাছে দিনটি হয়ে থাকবে লন্ডনের বুকে কাটানো একটি স্মরণীয় সকাল।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সাব্বির