পাবনায় বৃদ্ধের কোটি টাকার জমি দখল করে নিল প্রভাবশালীরা

পাবনায় বৃদ্ধের কোটি টাকার জমি দখল করে নিল প্রভাবশালীরা
ছবি: এম এ খালেক খান

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের আবু তালেব ফকির (৬৫) নামের এক ব্যক্তির ১৪ শতাংশ মূল্যবান জমি দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল তারা বিবাদমান জমিতে ঘর নির্মাণ করে বেড়া দিয়েছে। এতে বৃদ্ধ ব্যক্তিটির পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।আবু তালেব ফকির জানান, আজমপুর গ্রামে হারেজান খাতুন নামের এক নারী পৈত্রিক সূত্রে প্রায় ১০ শতাংশ জমি পান। সে জমির ৮ শতাংশ তিনি জীবদ্দশায় তার চাচা আ: জব্বার এর কাছে আর দুই শতাংশ অন্যজনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এদিকে হারেজান জমি বিক্রি করে ফেললেও তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক পরে ২ শতাংশ জমি নিজের দাবি করে গ্রহীতার কাছ থেকে আবার টাকা আদায় করেন। এদিকে আ: জব্বার এর কাছ ৮ শতাংশ জমি আবু তালেব ফকির কিনে নেন। এদিকে হারেজান মোট জমি বিক্রি করে ফেললেও তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ১০ শতাংশ জমি আবার তার মায়ের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। এরপর মায়ের কাছ থেকে সেই জমি নিজের নামে রেজেস্ট্রি করে নেন। এরপর রাজ্জাক জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আবু তালেব ফকির এর ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে তা বিক্রি করেন হাছিনা নামের এক নারীর কাছে। এদিকে ৩-৪ বছর আগে রাজ্জাক মারা যান। জমি আবু তালেব ফকির এ দখলে থাকায় হাছিনা খাতুন দখর পাননি। এরপর ওই জমির দখল পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন রাজ্জাকের ছেলে আবদুল্লাহ। ২০২২ সালের শেষের দিকে আবদুল্লাহ ও হাছিনার ছেলে পলাশ তার লোকজন নিয়ে এসে আবু তালেব ফকিরের ১৪ শতাংশ জমিতে মাটি ফেলতে থাকেন। তখন ওই বৃদ্ধ আবু তালেব ফকির এ কাজে বাধা দেন। তবে তিনি এতে কুলিয়ে উঠিতে না পেরে আদালতের আশ্রয় নেন। আদালত তার পক্ষে স্ট্যাটাসকো দেন। আবু তালেব ফকির জানান তাকে গ্রামের যুবক আবদুল্লাহ, পলাশ ও তার সহযোগীরা একের পর এক হুমকি দিতে থাকেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল তারা ৪০-৫০ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে এসে তার জমিতে টিনের ঘর তোলেন। সে সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তারা। তিনি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ কল করেন। এরপর দুই পুলিশ সদস্য আসেন। তবে তার ঘটানাস্থলে দাড়িয়ে থাকেন। দখলদাররা ঘর তুলতে থাকেন। এ সময় তারা আবু তালেব ফকির এর দোকানে লুটপাট চালায়। দোকনের গ্যাস সিলিন্ডার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় তারা। ওই বৃদ্ধ জানান, তিনি একজন অসহায় মানুষ। তার পক্ষে প্রভাবশালীদের সাথে লড়াই করা সম্ভব না। তিনি জানান, তিনি তার সন্তানদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন? তার প্রায় কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় তিনি প্রশাসনের সাহয়তা কামনা করেন। আবদুল্লাহ ও হাছিনা খাতুনকে মোবাইল ফোন করেলও তারা রিসিভ করেননি। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিুকল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি জানেন। জমি নিয়ে ওই গ্রামে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। তিনি জানান, জমি দখল করে ঘর নির্মাণের সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু ঘর পুরাটাই নির্মাণ হয়েছে বেড়া দেওয়া হয়েছে জানালে ওসি জানান, এ ব্যাপারে স্থানীয় বৈঠক করে তিনি মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তা সম্ভব না হলে আদালতের শরনাপন্ন হতে হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান