মুখীকচুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।

মুখীকচুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
ছবি: মোঃ আতিউর রহমান

দৈনিক বিজয় নিউজ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বিরামপুরে আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছে প্রান্তিক কৃষকরা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে সাদা সোনা খ্যাত মুখীকচু। বিস্তীর্ণ উঁচু-নিচু জমি জুড়ে সবুজ কচু গাছে শুধুই সাদা সোনার হাতছানি। বিরামপুর উপজেলার সব ইউনিয়নে মুখীকচুর চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় মুকুন্দপুর, কাটলা, পলিপ্রয়াগপুর ও পৌরসভার নদীর পাড়ে।শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলে উঁচু-নিচু জমি জুড়ে কচু গাছের। সবুজ কচু গাছেই যেন সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা।

স্থানীয় চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বিরামপুর উপজেলার কৃষকরা ঢালুসহ সমতল জমিতে মুখীকচুর চাষ করছেন। মুখীকচু চাষে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরেছে উপজেলার কৃষক পরিবারে। মুখীকচু চাষে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে এলাকার অর্থনীতি। এ সবজি লাভজনক হওয়ায় চাষের পরিধি বাড়ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, মুখীকচুতে পোকা ও রোগবালাই তেমন না থাকায় খরচ কম সে কারণেই স্থানীয় কৃষকরা মুখীকচুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কচুগোত্রীয় সবজির মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় মুখীকচু। মুখীকচুর ছড়া বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মুখীকচুর গাছ হলদে হয়ে শুকিয়ে গেলে এ কচু তুলতে হয়।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চৈত্র মাসের শুরুতেই জমিতে আগাছা পরিষ্কার করে মাটি কুপিয়ে চাষযোগ্য করে তোলা হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রথম বৃষ্টি হলেই মাটিতে মুখীকচুর বীজ বপন করা হয়। চারা গজানোর পরে আগাছা পরিষ্কার, কেইল বা লাইন করা (দুপাশ থেকে মাটি গাছের গোড়াতে দেওয়া) ও প্রয়োজন মতো কয়েকবার সার প্রয়োগ করতে হয়। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে মুখীকচু জমি থেকে উত্তোলন ও বিক্রি শুরু হয়।

উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের কচু চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন,১ বিঘা জমিতে ৬০-৮০ মন কচু পাওয়া যায়। জমি তৈরি,বীজ বপন,সারসহ কচু উত্তোলন করে বাজারজাত পর্যন্ত বিঘা প্রতি প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। কচু চাষ লাভজনক হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার বেশি করে কচু চাষ করেছি।গতবছর প্রতি মন কচু ১৬-১৮ শত টাকা দরে বিক্রি করেছি কিন্তু এবার সে তুলনায় প্রতি মন কচু ১১-১৩ শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিরামপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম কসবা সাগরপুর এলাকার কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান, উচুঁ-নিচু জমি ছাড়াও সমতলে মুখীকচু চাষ করা হয়। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মুখীকচু চাষের পরিধি বাড়ছে। মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কচু চাষি মো. আব্দুল করিম বলেন, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কচু চাষে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় চাষিরা। মুখীকচুর পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল ইসলাম ও দুলাল জানান, গত কয়েক বছরে মুখীকচু বিরামপুর উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে।

বিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন,নদীর পাড়ের আবহাওয়া ও উর্বর মাটির ফলে মুখীকচুর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় বলে উপজেলার কৃষকরা মুখীকচু চাষে আগ্রহী হচ্ছে। উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে কৃষকদের সফলতার হাড়। উপজেলার পরিত্যক্ত ঢালু জমিতে মুখীকচু চাষে সোনা ফলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চলতি বছর বিরামপুর উপজেলার ১৬০ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর চাষ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আতিউর রহমান