‎৭ ঘণ্টা অনশনের পর দাবি মেনে নিলেন হল প্রশাসন

‎৭ ঘণ্টা অনশনের পর দাবি মেনে নিলেন হল প্রশাসন
ছবিঃ ভাস্কর চন্দ্র রায়

দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হলের সিটে ১০% কোটা এবং জুলাই ৬ হলের বিতর্কিত ফলাফল বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলো ৫ ছাত্র। টানা ৭ ঘণ্টা ধরে অনশনে থেকে ২ জন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ায় ছাত্রদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন আলোচনায় বসে তাদের দাবি মেনে নিয়েছে

‎বুধবার (৬ আগস্ট) জুলাই ৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২০-২১, ২০২১-২২,  ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের হলের রেজাল্ট দেওয়া হয়। ফলাফল প্রকাশ হবার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপগুলোতে সিট বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে  নানান আলোচনা, সমালোচনা করতে থাকে।
‎তারই প্রেক্ষিতে আজ শনিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৫ জন ছাত্র সকাল ১১টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশনে বসেন। এই পাঁচ ছাত্র হলেন, বাংলা বিভাগের মিকাইল হোসেন, গণিত বিভাগের তৌফিক হায়াত ওয়াসিন, সাখাওয়াত হোসাইন, সমাজকর্ম বিভাগের সোহেল রানা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আবু জিহাদ।

‎শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ৬ আগস্ট জুলাই ৬ হলে ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদের হলে ওঠার জন্য ফলাফল দেওয়া হয়। সেই ফলাফলে অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতা ধরা পড়ে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্ররা সমালোচনা শুরু করলেও দুইদিনের মধ্যে হল প্রশাসন এর কোন সঠিক ব্যাখা দিতে পারেননি। ‎তাদের আরো দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতিমালা তৈরি করে তাদের হাতে ১০% সিট রেখেছেন। ফলাফল প্রকাশের সময় সেই ১০% সিট তারা রাজনৈতিক দলগুলো এবং এক সমন্বয়কের মধ্যে বন্টন করেন। যারা যারা সিট পাওয়ার যোগ্য ছিল তারা সিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ‎এই অবস্থায় তারা হল প্রশাসনের হাতে থাকা ১০% সিট এবং বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সিট বন্টনের দাবিতে অনশনে বসেছেন।

‎তবে, অনশনে থাকা অবস্থায় সন্ধা ৬টার দিকে গণিত বিভাগের ছাত্র তৌফিক হায়াত ওয়াসিন ও  সমাজকর্ম বিভাগের সোহেল রানা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন উপস্থিত ছাত্রদের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের দায় শিকার করে তাদের দাবিগুলো মেনে নেন। দাবিগুলোর মধ্যে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল  ও নতুন করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের দাবি মেনে নেন। ‎পরিসংখান বিভাগের শিক্ষার্থী হিশাম বলেন, যে ১০% কোটা প্রশাসনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেটার বিষয়ে কথা হয়েছে স্যারের সাথে। উনি বলেছেন এটা সরাসরি ভিসি স্যার পদক্ষেপ নিতে পারবেন, এখানে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে শিক্ষকরাও উদ্বিগ্ন যে এই ১০০ টা সিট কোনো ভাবে যদি রাজনৈতিক দলের কাছে চলে যায় তাহলে অনর্থ হয়ে যাবে। আমরা শিক্ষার্থীরা দরকার হলে আগামীকাল আবার ভিসি স্যারের সাথে দেখা করব।

‎জুলাই ৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়েই আমাদের কাজ। তারা না থাকলে আমাদের মূল্য নেই। আর শিক্ষার্থীরা যেহেতু প্রশ্ন তুলে অনশনে বসেছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিবেচনা করেছি। আর আমি আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যতটা স্বচ্ছ ভাবে সিট দেয়া যায়। তবে শিক্ষার্থীরা অনশনে বসে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো তার জন্য আমরা এই ফলাফল স্থগিত করছি। পরবর্তীতে আবার যখন ফলাফল ঘোষণা করা হবে তখন ফলাফলের মার্কসিট সহ প্রকাশ করা হবে। আশা করি এতে স্বচ্ছতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়