মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' এবং 'বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা' বিষয়ের নতুন বইয়েও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর লেখা বিষয়বস্তু যুক্ত করা হবে। আগামী জানুয়ারিতে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের এসব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ের একটি অধ্যায়ে স্বাধীনতা-উত্তর গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু স্থান পাবে। এতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুও থাকবে। বয়স ও শ্রেণি বিবেচনা করে বিষয়বস্তুর পরিমাণ কমবেশি হবে। চলতি বছরের বইয়ে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যান্য বিষয়বস্তুও থাকবে, কেবল তথ্য ও ভাষাগত সমস্যা সংশোধন করা হচ্ছে।

এছাড়া, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর লেখা সংযোজন করা হচ্ছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণির নতুন ক্লাস শুরু হওয়ার আগে পাঠ্যবই প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। প্রথমে পাঠ্যবইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের বইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু নিয়ে কবিতা ও প্রবন্ধ বা গদ্য যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

বই ছাপার পরিস্থিতি

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী বছর বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই প্রায় ৮ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই প্রায় ২১ কোটি ৪০ লাখ। এবার মোট বইয়ের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

প্রাক্-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এ মাসেই প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা শুরু হবে। এর পরপরই প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপা শুরু হবে। এনসিটিবির লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ করা।

গত বছর শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় তিন মাস পর শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোয় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে এবং এনসিটিবির সমালোচনা হয়। এবার বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়েছে এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তদারকি করা হবে সময়মতো কাজ শেষ হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ