দেশ আলোড়িত দিনাজপুরের সেই ইয়াসমিন ট্রাজেডি আজ।

দেশ আলোড়িত দিনাজপুরের সেই ইয়াসমিন ট্রাজেডি আজ।
ছবিঃ মোঃ আতিউর রহমান

দৈনিক বিজয় নিউজ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

দেশে আলোড়িত দিনাজপুরের সেই ইয়াসমিন ট্রাজেডি ঘটনা যা আজও শিহরিত করে। ইয়াসমিন ট্রাজেডি’র আজ ৩০তম বার্ষিকী। এদিনে দেশব্যাপী পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে। ১৯৯৫সালে কতিপয় পুলিশ কর্তৃক ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের শিকার ইয়াসমিনের ধর্ষ*ণ ও হ*ত্যা*র বিচার হয়েছে।শেষ পর্যন্ত দোষী তিন পুলিশের ফাঁ*সী কার্যকর করা হয়েছে।এই ঘটনা মানুষের মনে এখনো নাড়া দেয় দারুণভাবে। এখনো মানুষ প্রতিবাদী প্রতীক হিসাবে ইয়াসমিন ট্রাজেডিকে তুলে ধরে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ ও শোক র‌্যালী। দিবসটি পালনে সম্মিলিত নারী সমাজ, মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচী গ্রহণ করে। দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বক্সী বাচ্চু বলেন, এটা বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না। এ আন্দোলন সমগ্র দিনাজপুরবাসীর আন্দোলনে রুপ নেয়। যার কারণে তদানিন্তন সরকার বাধ্য হয়ে দাবী মেনে নিয়ে তৎকালীন সরকার প্রধানের বিশেষ প্রতিনিধি এসে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়। প্রতিবছর দিনাজপুরে দিবসটিকে পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, আজ থেকে ২৯বছর পূর্বে ১৯৯৫সালের এ দিনে দিনাজপুরে একদল বিপথগামী পুলিশের হাতে তরুণী ইয়াসমিন নিমর্মভাবে ধ*র্ষন ও হ*ত্যা*র শিকার হয়। এ বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের মানুষ। প্রতিবাদী মানুষকে লক্ষ্য করে পুলিশ নির্বিচারে গু*লি চালিয়ে ৭ জন নিরীহ মানুষকে হ*ত্যা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে ১৪৪ ধারা (কার্ফ্যূ) জারি করা হয়। শহরে নামানো হয় বিডিআর। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি নিবন্ধ হয় দিনাজপুরের দিকে। ইয়াসমিন ধ*র্ষন ও হ*ত্যা ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি ৩টি আদালতে ১শ’ ২৩ দিন বিচার কাজ শেষে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগষ্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মতিন মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়ে আসামী পুলিশের এ,এস,আই মঈনুল, কনষ্টেবল আব্দুস সাত্তার ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান চালক অমৃত লাল বর্ম্মনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান ‘৯৫-এর ৬ (৪) ধারায় ধর্ষ*ন ও খু*নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফাঁ*সি*তে ঝুলিয়ে মৃত্যু*র আদেশ দেন। আলামত নষ্ট,সত্য গোপন ও অসহযোগিতার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এ,এম,আই মঈনুলকে আরো ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। চাঞ্চল্যকর ইয়াসমিন ধ*র্ষন ও হ*ত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ফাঁ*সির রায় কার্যকর করা হয় ৮ বছর পর অর্থাৎ ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আতিউর রহমান