রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসন অচল, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট গভীরে

রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসন অচল, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট গভীরে
ছবিঃ দৈনিক বিজয় নিউজ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ সোমবার কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে। এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন রাখাইনে গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরানোর সব প্রচেষ্টাই পর্যন্ত অচল হয়ে পড়েছে।

আট বছর আগে এই দিনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যদিও তাদের ফেরাতে দুবার প্রত্যাবাসনের তারিখও চূড়ান্ত হয়েছিল, কিন্তু তা শুরুই করা যায়নি। বরং গত দেড় বছরে নতুন করে আরও ১ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বৈশ্বিক মনোযোগহীনতা ও বাড়তে থাকা সংকট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ বদলানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মনোযোগ সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রায় উপেক্ষিতই থেকে গেছে। এদিকে, আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের একাংশ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে; অনেকেই মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতির পাশাপাশি মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

মানবিক সহায়তায় বড় ধরণের ঘাটতি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। ২০২৫ সালের জন্য জিআরপির আওতায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার চাওয়া হলেও, গত জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩৫ শতাংশ তহবিন্ড পাওয়া গেছে। তহবিন্ড সংকটের কারণে তিন হাজারেরও বেশি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, leaving over four lakh Rohingya children without education.

আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সরকারের অবস্থান এমন প্রেক্ষাপটে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সংকট সমাধানে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। কক্সবাজারে আজকের সম্মেলনের পর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ৬ ডিসেম্বর কাতারে আরও দুটি সম্মেলন হবে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল হলেও সরকারের প্রচেষ্টা থেমে নেই এবং সম্মেলন থেকে ইতিবাচক outcome আশা করা যায়।

পরিসংখ্যানে অপরাধ পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের提供的 তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে আশ্রয়শিবিরে ২৬৩ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছেন। এ সময়ে ৪ হাজার ৫৪টি মামলায় ৯ হাজার ৩৩ জন রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ২ হাজার ৫৮৯টি এবং অস্ত্রের মামলা ৪১৮টি। গত দেড় বছরে ৩৮টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে।

রাখাইনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রাখাইনের পরিস্থিতিও ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আরাকান আর্মি, আরসা, আরএসও এবং আরআরএ-এর মতো armed groups之间的 সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার কারণে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

রোহিঙ্গাদের হতাশা উখিয়ার এক রোহিঙ্গা ছৈয়দ হোসেন (৫৩) তার মনের কথাটি share করে বলেন, "ত্রিপলের ছাউনিতে আট বছর কেটে গেল, অথচ জন্মভূমি আরাকানে ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের 'আগামী ঈদুল আজহা রাখাইনে পড়ার' আশ্বাস সত্ত্বেও প্রত্যাবাসনে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের হতাশা day by day গভীর হচ্ছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী Rohingya militants-এর হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে গণহত্যা চালায়। থেকে now পর্যন্ত কক্সবাজারের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে

দৈনিক বিজয় নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদন