"বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ"-এর ইশতেহার: গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অঙ্গীকার

ছবিঃ দৈনিক বিজয় নিউজ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে প্যানেলটি তাদের বিস্তৃত ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গত শনিবার মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।

প্রধান অঙ্গীকারসমূহ

১. রাজনৈতিক সংস্কার:

  • নিয়মিত ও সময়ানুক্রমিক ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

  • ক্যাম্পাস থেকে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ব্যবহার ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটানো।

  • হল ও একাডেমিক ভবনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা।

  • হলের গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি চিরতরে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

২. একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন:

  • ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসনকে অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক সংস্কার করা।

  • উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও প্রাধ্যক্ষ নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করে ‘প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র’ এর অবসান ঘটানো।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া ৩০০ একর জমি ফিরিয়ে আনা।

৩. শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও বৈষম্য রোধ:

  • পোশাক, দাড়ি-টুপি, আঞ্চলিকতা বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে "নৈতিক পুলিশিং" এবং যেকোনো ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

  • ভিন্নধর্মাবলম্বী, আদিবাসী ও মাদ্রাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতি অপরায়ন ও বৈষম্য বন্ধ করা।

৪. ডিজিটাল ও সেবা সংস্কার:

  • একটি ‘ওয়ান-স্টপ সলিউশন’ মোবাইল অ্যাপ চালু করার প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে ভর্তি, ফলাফল, বেতন পরিশোধসহ সব সেবা নেওয়া যাবে এবং রেজিস্ট্রার ভবনে দৌড়াদৌড়ি ও সিন্ডিকেট বন্ধ হবে।

  • ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ চালু করে লাইব্রেরি, পরিবহন, ক্যানটিন ও হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

  • স্টারলিংকের মতো সেবা ব্যবহার করে পুরো ক্যাম্পাসে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করা।

৫. শিক্ষার্থী কল্যাণ:

  • ‘এক শিক্ষার্থী, এক আসন’ নীতির অধীনে হল প্রশাসনকে শক্তিশালী করে আবাসন সংকট সমাধান করা।

  • খণ্ডকালীন চাকরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৬. নারী ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন:

  • ক্যাম্পাসকে নারীবান্ধব করতে জনপরিসর উন্নত করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষায় একটি ‘বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস সংরক্ষণে একটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি "ক্যান্টনমেন্ট" ও "কনসেনট্রেশন ক্যাম্প"-এ পরিণত করা হয়েছে। তিনি একটি সাহসী নেতৃত্বের অঙ্গীকার করেন যারা ক্ষমতাসীনদের চোখে চোখ রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য কথা বলবে। উল্লেখ্য, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ