নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নিচ্ছে দূর্বৃত্তরা

নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নিচ্ছে দূর্বৃত্তরা

দৈনিক বিজয় নিউজ  নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাইশারী ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছ দুর্বৃত্তরা দিনে দুপুরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সড়কের পাশে সৌন্দর্য ও যাত্রীদের স্বস্তির জন্য লাগানো বহু বছরের পুরনো শুভাবর্ধন ছায়া বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে। স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশে কয়েকটি পুরনো অর্জুন ও অন্যান্য ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলার সময় এলাকাবাসী বাঁধা দেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী মোঃ আলম স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করেন। স্থানীয়রা জানান, বাইশারী ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক সড়কের পাশে লাগানো গাছ কেটে ফেলছে দিনে দুপুরে দুর্বৃত্তরা।

এলজিইডি ও বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটা হচ্ছে। দিনে দুপুরে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা মেশিন ব্যবহার করে দ্রুত গাছ কেটে পরিবহন করে, নিকটস্থ  করাতকলে নিয়ে যায়। গাছগুলো শুধু ছায়ার জন্যই নয়, অর্জুন গাছ বিশেষভাবে ওষুধি গুণসম্পন্ন। তাই এসব বৃক্ষ কেটে ফেলা দুঃখজনক এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজ তাদের অভিযোগ। বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক  যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছব্বির আহমদ অবৈধ করাতকলের মালিক বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে আলাউদ্দিন কোম্পানীর কাছ থেকে এসব গাছ ক্রয় করেছি। বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন।

আমি কোনো অনুমতি দিইনি অনুমতির প্রশ্নই ওঠে না। সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক সড়কের পাশে লাগানো গাছ কাটার কোনো এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের নেই। বাইশারী বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল করিম বান্ডু জানান, অন্যায়কারী সে যেইদলেরী হোক না কে তাদের কে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বন বিভাগকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাইশারী সাঙ্গু রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর হুসাইন বলেন, আমি বর্তমানে দূরে আছি, ফিরে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখব, বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভেসে উঠছে  সরকারী প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক সড়কের পাশে লাগানো গাছ দিনে দুপুরে কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই বৃক্ষ কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়, বরং স্থানীয়দের জন্য ছায়া, অক্সিজেন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস। গাছ কেটে ফেলা পরিবেশ ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়কের বৃক্ষরাজি সংরক্ষণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।