বরিশালে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৭ নারীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে

বরিশালে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৭ নারীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে
ছবিঃ সংগ্রহীত

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশালঃ

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ জন নারীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এবং এই অভিযোগগুলি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে এটি একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের মূল বিষয়

বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী বিদেশে পড়াশোনা, সরকারি চাকরি, বিমানবালা হিসেবে সুযোগ বা সম্পত্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১৭ জন নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । তিনি আগের বিয়ের বিষয়গুলো গোপন রেখে নতুন নতুন নারীকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে । বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যে যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তিনি সংসার ভেঙে দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা ।

 ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

খুলনার চাকরিজীবী খাদিজা আক্তারকে ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পর দ্বিতীয় দিনেই তার কাছ থেকে বাবার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন কবির। রাজি না হওয়ায় তিনি তাকে সরকারি বাসভবন থেকে বের করে দেন । নাসরিন আক্তার নামের আরেক নারী অভিযোগ করেন, "বিয়ের নাটক ধরা পড়ার পর আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়" । অন্য একজন ভুক্তভোগী নারী জানান, কবির হোসেন বিভিন্ন জেলায় বদলি হওয়ার পর প্রতিটি স্থানেই নতুন করে বিয়ে করেছেন ।

আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ

ভুক্তভোগীরা আদালত এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলেও এখনও কোনো প্রতিকার পাননি । একবার দাপ্তরিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন । অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার আইনজীবী এনায়েত হোসেন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন এবং আইনী প্রক্রিয়ায় এর মোকাবিলa করার কথা বলেছেন ।

সমাজ ও নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম এই ঘটনাকে গুরুতর আইনের লঙ্ঘন ও নৈতিকতাবিবর্জিত কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে এবং অনেক ব্যবহারকারী এই ঘটনার তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন ।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, এই বিষয়টি তার জানা নেই এবং ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে । বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি । এই ঘটনাটি নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার দুর্ব্যবহারের একটি চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী নারীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এখন সকলের কাম্য।

দৈনিক বিজয় নিউজ/