হয়েও হয়নি দেখা - (এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ)
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
হয়েও হয়নি দেখা - (এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ)
(দ্বিতীয় পর্ব) সন্ধ্যা ৬:৫৮ ঘটিকায়
গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্টে জামান একটা বাসে চড়ে বসে ভেজা শরীরে। সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে জামান খুলনার বাসে চেপে বসে ভেজা শরীরে ত্রিশ মাইল নামে তখন মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, রাত ৯:৪৫ বাজে। বৃষ্টির মাঝে কোন গাড়ী, হেলিকপ্টার সেনের গাঁতি/ফুলবাড়িয়া বাজারে আসতে রাজী না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে জামান। ওদিকে ছোট বোনটা কল করে খাওয়া বন্ধ করে কান্নাকাটি শুরু করেছে। উপায়ান্তর না পেয়ে সাগর ত্রিশ মাইল থেকে আট/দশ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে আত্মীয় বাড়ীতে পৌঁছানোর সংকল্প নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে মাথায় শার্ট বেঁধে রওয়ানা দেয়। কয়েক কিলো হাটার পরে পথিমধ্যে একটি কালীঘর দেখতে পেয়ে একটু বিচলিত হয়। তখন ভীত সন্তোস্ত অবস্থায় হাট থাকে আর ভাবতে থাকে কেনই গেলাম সেথায় আর কেনই বা এই করুন পরিনতি! পথিমধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা সুনসান নিরব আশে-পাশে ঘর বাড়ী কিছুই নেই। যাওয়ার সময় জামান শুনেছে এই জায়গায় ডাকাতি হয় ও লোকজনকে খুনও করে ফেলে। সেখানে গিয়ে জামানের সেই সকল কথা, ঘটনা ছবির মত ভেসে উঠলো চোখের সামনে। মোবাইল ফোনের ব্যাটারী শেষ হওয়ায় কাউকে কল করে কথা বলতে বলতে শক্তি সাহস যুগিয়ে সামনে যাবে সে অবস্থাও নেই।
ভয়ে ভীত জড়সড় হয়ে আস্তে আস্তে গন্তব্য সেনের গাঁতির দিকে পা চালছে। হঠাৎই ভ্যান গাড়ীর বেল বেজে উঠতেই জামানের হাত-পা অসার হয়ে গেছে। পাথর হয়ে গেছে পুরো শরীর, অবশ হয়ে গেছে দৃষ্টি, সংকুচিত হয়ে গেছে চারপাশ! ভ্যান গাড়ী সামনেই দাঁড়াতেই জামান শক্তি সাহস পায়। ভ্যান গাড়ীর আরোহীদের কথা জামানকে তার প্রাণ ও মনোবল ফিরে দেয়। তারা জামানকে ভ্যানে তুলে নিয়ে মিঠা বাড়ী মোড়ে এসে ভ্যান থামায় ও গরম দুধ পাউরুটি খেতে দেয়, তখন রাত বারোটা বেজে গেছে। জামানকে তারা রাতে তাদের বাড়ীতে থাকার জন্য খুব অনুরোধ করে। সাগর বলে আমার ছোট বোন রয়েছে আত্মীয় বাড়ীতে, সে রাতে কিছুই খাবেনা ও সারা রাত ঘুমাবেনা, কান্না কাটি করবে। জামানের কাছে এত রাত হওয়ার বিষয়ে সকল কথা শুনে তারা(মোঃ মনিরুল ইসলাম ও আমজাদ) সেনের গাঁতি আত্মীয় বাড়ীতে ফোন করে ছাতা নিয়ে মিঠা বাড়ী যেতে বলে। আত্মীয় বাড়ীতে সংবাদ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জামানের বন্ধু সাগর ও ফুফাতো ভাই বেল্লাল ছাতা নিয়ে ছুটে গিয়ে জামানকে সঙ্গে করে সেনের গাঁতি নিয়ে আসে। রাত বার টায় জামান, সাগর ও বেল্লালের সাথে সেনেরগাঁতি পৌঁছে ছোট বোনকে আশ্বস্ত করে, নামাজ ও খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জামান ছোট বোনকে সব ঘটনা খুলে বলে।
পরদিন আত্মীয় বাড়ী সেনেরগাঁতি থেকে কলারোয়া হেলাতলা হয়ে বাগ আঁচড়া হয়ে হাড়ীখালী কামরুজ্জামান কামু'র বাড়ী হয়ে নাভারন ভায়া যশোর এসে ট্রেনে চড়ে চাটমোহর(পাবনা) স্টেশনে নেমে বাড়ী ফিরে আসে। অনেক নিরন্ন সকাল, অনেক বিষন্ন দুপুর, অনেক বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যায়, নির্ঘুম রাতে জামান নলতা শরীফের কথা, ব্যথা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে আনমনে ভেবেছে! কোন অংক মেলাতে পারেনি, শুধুই নিছক সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক ভেবেছে কিন্তু ওয়ার্ছী গিফট কর্ণারে পরিস্ফুটিত কাহিনী ভুলতে চেষ্টা করেছে বারবার। নিজেকেই দোষী ভেবেছে, সেই সাথে অপরাধীও বটে! জামান চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি সেদিনের ঘটনার উত্তর খোঁজার! তবু্ও এটুকু সান্ত্বনা নিয়ে পেয়ে কাউকে দোষী করেনি, অপরাধী ভাবেনী! মনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে হয়তো ভাগ্যাকাশে চাদ কখনো কখনো উঠলেও আলো ছড়ায় না! তাইতো উভয় কবির মাঝে "হয়েও হয়নি দেখা" ! (১৩-০২-২০২৫)
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এস এম এম আকাশ