“কোনো সরকারই স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া চায় না,” – রেজওয়ানুল হক

“কোনো সরকারই স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া চায় না,” – রেজওয়ানুল হক
ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি ও মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেছেন, “সংবাদপত্র বা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আমরা সরকারকে বিভিন্নভাবে সমালোচনা করলেও, আমার মতে এর প্রয়োজন নেই। কারণ কোনো সরকারই আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না।”

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে সকাল সোয়া ১০টার দিকে এই সম্মিলন শুরু হয়, যা বেলা দেড়টা পর্যন্ত চলে। নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।

রেজওয়ানুল হক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেন, তারাও কাজটি করতে পারলেন না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও, সেই কমিশনের রিপোর্ট ফেলে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দল হিসেবে থাকাকালীন প্রতিটি রাজনৈতিক দল গণমাধ্যমকে বন্ধু মনে করলেও, ক্ষমতায় গেলে সেই সম্পর্ক উল্টে যায়। “তিনি যখন ক্ষমতায় যান, তখন মিডিয়া তার কাছে শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তাদের ঐক্যবদ্ধ না থাকা। এ প্রসঙ্গে তিনি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। “এর আগেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু সেই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি,” বলেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় তিনি সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের জন্য অন্তত একটি ফোরাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের করণীয় নির্ধারণে সম্মিলিত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে মত দেন রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “আমরা কীভাবে সাংবাদিকতা করব, কোনটা করা উচিত, কোনটা উচিত নয়—সেসব নিজেদের সেলফ রেগুলেশনের মধ্যে আনতে চাই। এ ধরনের একটি নীতি–নৈতিকতা ভিত্তিক রুলস যদি সবাই মিলে তৈরি করা যায়, তাহলে অসৎ উদ্দেশ্য থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।”

দৈনিক বিজয় নিউজ/