রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত অপপ্রচার: ডা. জাওয়াদুল হক রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (আরএমইউ) নিয়োগ, টেন্ডার ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। তিনি দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও একটি সুসংগঠিত চক্রের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ৪ মার্চ ২০২৬ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগের জবাব দেন।
সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে গত ২ মার্চ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে ‘জেনিথ কর্পোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। উপাচার্য এসব অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এই দুটি প্রতিষ্ঠান আরএমইউ-এর কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই করেনি। যেখানে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি, সেখানে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ কীভাবে আসে?
তিনি জানান, ‘জেনিথ কর্পোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপু দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস)-এর শর্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-এর পরিপন্থী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ হোয়াটসঅ্যাপ, কল ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাঁকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে উপাচার্য দাবি করেন। তিনি বলেন, “এসব ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে।”
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, ‘এম জামাল কোং’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও একই উদ্দেশ্যে স্পেসিফিকেশন এক্সপেরিয়েন্স কমানোর দাবি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, “বড় প্রকল্পে স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ রাখার বিধান থাকলেও তা ৫০ শতাংশের নিচে নামানোর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিয়ম মেনে চলায় এই ক্ষোভ থেকেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
লিখিত বক্তব্যে ডা. জাওয়াদুল হক জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। টেন্ডার, নিয়োগ ও অন্যান্য সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “একটি মহল টেন্ডারে অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পেরে এখন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে আমাকে পদচ্যুত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপাচার্য বানিয়ে নিজেদের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া যায়।”
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই সকল কার্যক্রম চলছে। ভিত্তিহীন অভিযোগে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই।” তিনি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন মহল প্রয়োজনে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন