রুবেল আর সুমি দুই বন্ধু । বছর দুয়েক পরে সুমির বাবা মারা যায়।সুমিরা হয়ে যায় অসহায় ।রোজগার করার মতো কেউ নেই ।তাদের পাশে এসে দাড়ায় সেই ছোট্ট ছেলেটি রুবেল ।রুবেল কাজ করে সুমির পরিবার চালায় ।রুবেলের সখ সুমিকে অনেক পড়ালেখা করাবে ।রুবেল নিজেই পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছে ।এভাবে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক হয়েছে ।একে অপরকে খুব ভালবাসে ।রুবেলের কষ্ট দেখে সুমি পড়ালেখা ছেড়ে দিতে চায় কিন্তু রুবেল তাকে ডাক্তার বানাবেই ।সুমি একে একে এসএসসি ও ইন্টার পাস করলো ।এখন সে ভার্সিটিতে ভর্তি হবে তার জন্য শহরে গিয়ে থাকতে হবে সেখানে অনেক খরচ ।রুবেল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না তার এই রোজগারের টাকা দিয়ে কিছু হবে না ।সে হসপিটাল গিয়ে নিজের একটা কিডনি বিক্রি করল আর ভাবলো সুমি ডাক্তার হলে তাকে সে সুস্থ করে তুলবে।সে টাকা দিয়ে সুমি ভার্সিটিতে ভর্তি হলো। সেখানে অনেক বড় পরিবারের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে তাদের পোশাক আশাক অনেক দামি ।রুবেল তা বুঝতে পেরে সুমির জন্য দামি দামি কাপড় কিনে আনল ।সুমি কলেজ যাওয়া শুরু করলো প্রতিদিন ।সেখানে একটা বড়লোকের ছেলের প্রেমে পড়ল সুমি ।সুমি ভাবে তাকে পেলে সে রানী হয়ে থাকবে ।রুবেলকে বিয়ে করলে সে কিছুই পাবে না ।রুবেল কে তার এখন সহ্য হয় না ।সেই ছেলেটির দেওয়ার ফ্লাট বাড়িতে চলে যায় সুমি আর তা মা ।রুবেলকে ভুলে যায় সুমি ।সুমি ডাক্তারি পাস করলো ।একটি হাসপাতালেও চাকরী পেল সুমি ।তার জীবনের প্রথম রোগী ছিল রুবেল ।সুমি নার্সকে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে তার তখনও সুমি দেখেনি রুবেলের মুখটা ।নার্স বলল তার ভালোবাসার মানুষটিকে ডাক্তারি পড়ার জন্য সে তার একটা কিডনি বিক্রি করে দিয়েছে ।আর লোকটি বলল তার ভালবাসার মানুষটি ডাক্তারী পাস করে তাকে ভাল করবে।কিন্তু ম্যাডাম জানেন সেই মেয়েটি বড়লোকের ছেলের পাল্লায় পড়ে তাকে ভুলে যায় ।সুমি তাড়াতাড়ি মুখের চাদর উঠিয়ে দেখল রুবেলের মৃত দেহ।সুমি কাদতে লাগলো আর বলল আমি রুবেলের সাথে বড় অন্যায় করেছি ।কিন্তু এখন কেদে কি হবে রুবেল চলে গেছে না ফেরার দেশে । মেয়েদের প্রেম এমনি হয় প্রয়োজন পড়লে কাছে টানে আর প্রয়োজন শেষ হলে দুরে ঠেলে দেয় ।