ইউএনওকে নিয়ে জামায়াত নেতার স্ট্যাটাস, পীরগাছায় আলোচনা
দৈনিক বিজয় নিউজ পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রত্যাশিত সৌজন্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে দেওয়া ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্ট্যাটাসে বজলুর রশিদ মুকুল দাবি করেন, গত ১৪ মে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নবযোগদানকারী ইউএনও’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি সুধী সমাবেশের আমন্ত্রণপত্রও ইউএনও-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সাক্ষাৎকালে ইউএনও তাঁদের বক্তব্য কিছুটা অনাগ্রহ বা বিরক্তির সঙ্গে শুনছিলেন বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি বলেও উল্লেখ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ইউএনও-র ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার বিষয়টি তাঁর বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বজলুর রশিদ মুকুল লেখেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে দায়িত্বের অংশ মনে করি। কিন্তু সাক্ষাৎ শেষে আমার মনে হয়েছে, আমরা প্রত্যাশিত আন্তরিকতা ও সৌজন্যতা পাইনি।” তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎ শেষে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক গ্রন্থ ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’ ইউএনওকে উপহার দেন। তবে বইটি গ্রহণের ধরন তাঁকে হতাশ করেছে। একপর্যায়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই কি ইউএনও মহোদয় স্বাভাবিক সৌজন্যতা প্রদর্শন করতে পারেননি, নাকি বিষয়টি শুধুই আমার ভুল ধারণা?”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পীরগাছা ইউএনও’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইউএনও স্যার বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে গভীর রাতে ফোন দেওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এগুলো বিষয়ে অফিস সময়ে যোগাযোগ করবেন, গভীর রাতে যোগাযোগ করা শিষ্টাচারসম্মত নয়। খুব দরকার বা ইমারজেন্সী না হলে এতো রাতে ফোন দিবেন না!"
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন; আবার কেউ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শিষ্টাচার এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ আতিকুর রহমান