মন্ত্রী বিহীন গোবিন্দগঞ্জ কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত গোবিন্দগঞ্জে মন্ত্রীত্ব আসুক এমপি শামীম কায়সার লিংকনের হাত ধরে

মন্ত্রী বিহীন গোবিন্দগঞ্জ কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত গোবিন্দগঞ্জে মন্ত্রীত্ব আসুক এমপি শামীম কায়সার লিংকনের হাত ধরে
ছবিঃ সাজাদুর রহমান সাজু

দৈনিক বিজয় নিউজ গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর রংপুরের ১৯টি সংসদীয় আসনের বিএনপি একমাত্র নির্বাচিত এমপি শামীম কায়সার লিংকন। উত্তর জনপদের ৮ জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সংসদীয় জাতীয় সংসদের একক সংসদীয় আসন ৩২ গাইবান্ধা ৪ গোবিন্দগঞ্জ। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে একটি উপজেলা আর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩২ গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) এই সংসদীয় আসনটি। আপনার বাড়ি কোথায়? ওমুক মন্ত্রীর এলাকায়। আপনার এলাকার কে আছে? মন্ত্রী আছে, সচিব আছে, তমুক শিল্পপতি আছে এবং দেশসেরা ওই ক্রিকেটারের এলাকা। এই জাতীয় প্রশ্নের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এমন প্রশ্নের উত্তরে গোবিন্দগঞ্জ বাসীদের সর্বদা নিশ্চুপ থাকতে হয়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মন্ত্রীত্বের ইতিহাস প্রায় শুণ্য। সাথে মন্ত্রী না পাওয়ায় অন্যান্য এলাকার মত উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের গতিও কম। স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই খরা এখনও কাটেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ্ব শামীম কায়সার লিংকনের হাত ধরে কাটুক উপজেলার এই মন্ত্রীত্বের খরা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আজ অবধি মন্ত্রীর দেখা পাইনি গোবিন্দগঞ্জবাসী। ফলে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি উত্তর জনপদের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা গোবিন্দগঞ্জের। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩২ গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন।

স্বাধীনতার পর গঠিত গণপরিষদের প্রথম স্পিকার স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত গণপরিষদে ক্ষণকালের জন্য পূর্ণমন্ত্রী পদমর্যাদার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন গোবিন্দগঞ্জের কৃতি-সন্তান এ্যাড. শাহ আব্দুল হামিদ। তিনি মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর মাত্র অল্প কিছুদিন তিনি জীবিত ছিলেন। গণপরিষদের সম্ভবত একটি বা দুটি অধিবেশনের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে ছিলেন তিনি। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন। এরপরেও অনেক এমপি গেলেও মন্ত্রীত্বের স্বাদ পায়নি গোবিন্দগঞ্জ থেকে নির্বাচিত কোন জাতীয় সংসদ সদস্য। গণপরিষদের এমএলএ ছিলেন জামালুর রহমান প্রধান। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন জাহাঙ্গীর কবির। জিয়াউর রহমানের সময় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম বুদু মিয়া বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নির্বাচিত সাংসদ এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বুদু মিয়া প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার জেলা উন্নয়ন সমন্বয়কারী (ডিডিসি) হিসেবে রংপুর জেলার দায়িত্বে ছিলেন।


তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফর রহমান চৌধুরী প্রথমে নিদর্লীয় প্রার্থী হিসেবে এবং পরের দুইবার জাতীয় পার্টিও পার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। কিন্তু তখন জাতীয় পাটি ক্ষমতায় না থাকায় তাঁর মন্ত্রী হওয়া নিয়ে কোন কথা শোনা যায়নি। চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিদর্লীয় প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমান বেলাল এমপি নির্বাচিত হন। স্বল্পকালীন ছষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি’র প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মন্ডল। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আব্দুল মোত্তালিব এমপি নির্বাচিত হয়। তাকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী হওয়ার গুনজন তৈরি হয়েছিল তাঁর সামাজিক ও উন্নয়নমুলক কার্যাবলির জন্য। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জিতে চারদলীয় জোট সরকার গঠন করায় সেই সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী হতে পারেন নি। আব্দুল মোত্তালিব এমপির আকস্মিক মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে জয়ী হন তাঁর জৈষ্ঠ্য পুত্র শামীম কায়সার লিংকন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করায় তাকে ঘিরেও মন্ত্রী হওয়ার আনা গোনা শোনা যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিদর্লীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তেরটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু কোন সাংসদ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী কিংবা সমজাতীয় পদে দায়িত্ব পায়নি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে। আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালিত হয়। আমলাতন্ত্রের বাহিরে একটি এলাকার অতিবেশি উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। যদি যথাযথ জায়গায় সেই এলাকার মন্ত্রী মর্যাদার লোক না থাকে। মন্ত্রী একটি মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের প্রধান। তিনি চাইলেই সেই মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করতে পারে। এমনকি তাঁর মন্ত্রীত্বের প্রভাব বিস্তার করে সহজেই অন্য মন্ত্রণালয় থেকে নিজ এলাকার জন্য উন্নয়ন নিয়ে আসতে পারেন। আর মন্ত্রী পদমর্যাদার কেউ না থাকলে উন্নয়ন বরাদ্দ আনা অনেকটা কঠিন কর্ম।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চতুর্থ বারের মত সরকার গঠন করছেন। আগামী দুই একদিনের মধ্যেই সরকার প্রধান মন্ত্রী পরিষদের রদবদল করবেন। সরকারি প্রশাসন ও মন্ত্রিসভায় খুব শিগগিরই বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মূলত নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনের গতি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়ার জোরালো আলোচনা চলছে। এই মন্ত্রীসভায় স্থান পাক ৩২, গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় দুই বারের সাংসদ শামীম কায়সার লিংকন। দর্লীয় রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় তাঁর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখন চলছে বিস্তর আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট গোবিন্দগঞ ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সাজাদুর রহমান সাজু