অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা এহসানুল কবীর টুকু। শুক্রবার সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার হোটেল ম্যাককায়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে এহসানুল কবীর টুকু বলেন, একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং একটি দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, অসত্য ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভাটাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদ দখল করে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রেমতলী জসিমউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর জন্য তাঁদের পরিবার জমি দান করে। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ যথাযথ নিয়ম মেনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। প্রেমতলী সুকেশীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বও তিনি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পেয়েছেন বলে দাবি করেন। বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এমন কোনো বিশেষ তহবিলই সেখানে ছিল না।

প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অর্থের বিনিময়ে পুনর্বহাল করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো ধরনের ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব নেই। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান গৌরাঙ্গ বাড়ির সম্পত্তি দখল, বালুমহাল ও মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, গৌরাঙ্গ বাড়ির সম্পত্তি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয় এবং মসজিদের অর্থ সংশ্লিষ্ট কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকে। এসব বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আরও বলেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল কবীর টুকু গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন