বসন্তকেদার ডিগ্রি কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ: সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও জবাবদিহিতার সংকট; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার ডিগ্রি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী। অভিযোগকারীদের দাবি, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ না করে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সরকারি ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের নয়, অন্যদের ব্যবহারে? অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সরকারি অর্থায়নে কলেজের জন্য কেনা নয়টি ল্যাপটপ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীরা সেগুলোর সুবিধা পাননি। বরং অধ্যক্ষের সন্তান এবং কয়েকজন শিক্ষকের সন্তান দীর্ঘদিন ল্যাপটপগুলো ব্যবহার করেছেন। এতে অবহেলা ও অনিয়মিত ব্যবহারের কারণে অধিকাংশ ল্যাপটপ বর্তমানে নষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার যেসব প্রযুক্তিগত সুবিধা দিয়েছে, তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়, উন্নয়ন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের বিভিন্ন ভবন, রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যোগসাজশে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করলেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। তদন্তের দাবি এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীর জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে কলেজটির সার্বিক আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কলেজে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। সচেতন মহলের মতামত শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি বা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন