কুমিল্লার গোমতী বেড়িবাঁধ সড়কে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি: অন্ধকারে মাদকের অভয়ারণ্য

কুমিল্লার গোমতী বেড়িবাঁধ সড়কে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি: অন্ধকারে মাদকের অভয়ারণ্য
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড় দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ সড়ক এখন পুরোপুরি অন্ধকার। মাদক কারবারিদের নির্বিঘ্নে অপকর্ম পরিচালনার সুযোগ করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই সড়ক থেকে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। লাইট চুরি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকায় স্থানীয়রা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ​স্থানীয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কুমিল্লার গোমতী বেড়িবাঁধ এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা রাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু সম্প্রতি অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে দুই শতাধিক সোলার লাইট খুলে নিয়ে গেছে। এমনকি অনেক জায়গায় লাইটের খুঁটি বা পোস্টও উপড়ে নেওয়া হয়েছে। ​স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারিরা মূলত নিজেদের সুবিধার্থে এবং অবাধে চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সড়কটি অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান, গোমতী বাঁধের সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শহরে যাতায়াত করেন, কিন্তু এখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা জনশূন্য ও ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ​এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে অভিযোগ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ​সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, তিনি সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটিতে পুনরায় আলোর ব্যবস্থা ও চুরি হওয়া লাইট উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ​জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইউএনওকে চুরি হওয়া লাইট উদ্ধারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সেগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ​স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ