কুমিল্লায় সেনা-আনসার যৌথ মহড়া পরিদর্শনে মহাপরিচালক সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ ও স্বল্পসুদে ঋণের উপর গুরুত্বারোপ

কুমিল্লায় সেনা-আনসার যৌথ মহড়া পরিদর্শনে মহাপরিচালক সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ ও স্বল্পসুদে ঋণের উপর গুরুত্বারোপ
ছবিঃ এম এ খালেক খান

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ রোববার ১২ জুলাই কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়, উপজেলা আনসার ও ‘সঞ্জীবন’ প্লাটুন সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন যৌথ মহড়া পরিদর্শন করেছেন। একই দিন তিনি কুমিল্লা রেঞ্জ কার্যালয়ে ‘সঞ্জীবন’ প্লাটুন গঠন নতুন প্রকল্প নির্বাচন ও সদস্যদের করণীয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা রেঞ্জ ও জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ে পৌঁছালে আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল মহাপরিচালককে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে ভাতাভোগী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে একক উদ্যোগের পরিবর্তে দলগত কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক বলেন,“ঐক্যবদ্ধ ভাবে টিম হিসেবে সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে, একা নয়। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সদস্যদের দলগত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি ও লাভ-লোকসান মেনে নিয়েই যৌথ শক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে হবে, কারণ ঐক্যবদ্ধ শক্তি কখনো পরাজিত হয় না। তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে যেমন ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে, তেমনি সদস্যরাও আর্থিক লাভবান হবে। সঞ্জীবন প্রকল্প সফল করতে অভ্যন্তরীণ মতভেদ পরিহার করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রকল্পের মূলধন সংকট নিরসনে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের স্বল্পসুদে গ্রুপভিত্তিক ঋণ সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথ মূলধন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাহিনীর ডিজিটাল সফটওয়্যার এ নিবন্ধিত সদস্যরাই সঞ্জীবন প্রকল্পে সুযোগ পাবে। পরে সকাল সারে ১১টায় কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন যৌথ মহড়া পরিদর্শন করেন মহাপরিচালক। প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও চলমান মহড়ায় রেইড, অ্যাম্বুশ, আত্মগোপন, রোড ম্যাপিং, স্কেচ অঙ্কন এবং বাংকার নির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও কর্দমাক্ত পরিবেশে টিকে থাকার অভিজ্ঞতাই সদস্যদের প্রকৃত দক্ষ করে তোলে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে গঠিত ভিডিপি বাহিনীর মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষায় গণমানুষের অংশগ্রহণের বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দুপুরে কুমিল্লা রেঞ্জ কার্যালয়ে সকল ইউনিট প্রধানদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মহাপরিচালক চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। তিনি যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও তৎপরতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। একসময় কুমিল্লা রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট বিভিন্ন ইউনিট প্রধানগণ সহ আনসার-ভিডিপি'র বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান