মোহনপুরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার দাবি
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছা. আরেছা বেগমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, চুরি, চলাচলের রাস্তা বন্ধ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলা সদরের মোহনপুর উপজেলা ঐক্য প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আরেছা বেগম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। গত ২৯ জুলাই বাড়ি মেরামতের কাজ চলাকালে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান, তার বাবা ময়েজ আলী ও পরিবারের সদস্যরা পুলিশ নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন এবং জমির মালিকানা দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে হাফিজুর রহমান, ময়েজ আলী, আশা মনি ও তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার হাত ও কোমরে আঘাত লাগে। পাশাপাশি ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আরেছা বেগম আরও অভিযোগ করেন, বিচার পাওয়ার আশায় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের কাছে গেলে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সহযোগিতা না করে উল্টো প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। এর পর ২ আগস্ট তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ করার পরও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। এছাড়া ৪ আগস্ট বাড়ি মেরামতের জন্য রাখা নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করা হয়, প্রায় দুই হাজার ইট গর্ত ও পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং সেখানে কর্মরত এক নির্মাণশ্রমিককে মারধর করা হয়। তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৭০০টি ইট উদ্ধার করে বলে তার দাবি। আরেছা বেগমের ভাষ্য, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একাধিক সালিশে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত এলেও প্রতিপক্ষের হয়রানি ও হামলা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা এবং বাড়ি মেরামতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন