"শিবপুরে পুত্র কর্তৃক নিজ পিতাকে কুপিয়ে ও জখম করে হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্ৰেফতার

ছবিঃ আবু নাঈম রিপন

দৈনিক বিজয় নিউজ শিবপুর নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

নরসিংদীর শিবপুর থানার ভরতেরকান্দি গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে নিজ পিতাকে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় একমাত্র পলাতক আসামি মোঃ শাকিল চৌধুরীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ। সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এক অভিযানে গাজীপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিহত বাছেদ মিয়া (৬০) পেশায় একজন কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। আসামি শাকিল চৌধুরী নিহত বাছেদ মিয়ার নিজ বড় ছেলে। এর আগেও একটি হত্যা মামলায় ১০ বছর সাজা ভোগের পর প্রায় ছয় মাস আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সাথেই বসবাস করছিলেন শাকিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় নিহত বাছেদ মিয়া আসামি শাকিলকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকায় বাদী আসামির ছোট ভাই নূর নবী রাশেদ (২১) ও তার মা নিহতের আর্তনাদ শুনে কক্ষে ছুটে গিয়ে দেখতে গেলে আসামি শাকিল কুড়ালের উল্টো পাশের লোহার অংশ দিয়ে মায়ের কপাল ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। বাদী তাকে থামাতে গেলে তাকেও একইভাবে জখম করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে তারা দেখতে পান, পিতা বাছেদ মিয়া খাটের ওপর পেটের দুই পাশ দিয়ে রক্তাক্ত নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। স্বজনরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামি তাদের আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই পিতার মৃত্যু হয়।

সংবাদ পেয়ে শিবপুর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। ঘটনাস্থলে অফিসার ইনচার্জ এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) সরজমিনে উপস্থিত থেকে তদন্ত তদারকি করেন।

জব্দকৃত আলামত: হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের পেট থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি আসামির বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার অভিযান: হত্যাকাণ্ডের পর শিবপুর মডেল থানায় নিহতের অপর ছেলে নূর নবী রাশেদ (২১) বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গাজীপুর মেট্রো এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ০৫ সেপ্টেম্বর রাত ০৩:০০ ঘটিকায় গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন হায়দারাবাদ এলাকায় জনৈক ইকবাল হোসেনের বাসা থেকে পূবাইল থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শাকিল চৌধুরী তার নিজ পিতাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করে নাড়িভুঁড়ি বের করে নৃশংসভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ আবু নাঈম রিপন