সোনালী ব্যাংকের বন্ধকি সম্পত্তি ও জুট মিলের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে পাচার: জনতার হাতে আটক ৮, মামলা দায়ের

সোনালী ব্যাংকের বন্ধকি সম্পত্তি ও জুট মিলের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে পাচার: জনতার হাতে আটক ৮, মামলা দায়ের
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

​কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত একটি জুট মিলের প্রায় ১৩ হাজার কেজি মূল্যবান যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে পাচারের সময় চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি ও অর্থঋণ আদালতের মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গোপনে মিলের ভেতরে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কেটে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মালিকপক্ষ। তবে শেষরক্ষা হয়নি; স্থানীয় জনতার সাহসিকতায় হাতেনাতে আটক হয় পাচারকারী চক্র। ​ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত ‘উষা জুট স্পিনার্স লিঃ’ মিলে। ​মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসি ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিঃ-এর বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর আওতায় ২০২৪ সালের ২০ মার্চ একটি অর্থঋণ মামলা (নং- ১০০১/২০২৪) দায়ের করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও ব্যাংকের বন্ধকি সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ একটি চক্র রাতের অন্ধকারে মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের ষড়যন্ত্র করেন।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি ট্রাকে করে মিলের বিশাল পরিমাণের ভারী যন্ত্রাংশ ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা ট্রাক দুটি গতি রোধ করে এবং সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আটক করে। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালকসহ সহযোগীদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সাথে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। ​এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

​জব্দকৃত মালামাল ও গ্রেফতারকৃতরা:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে—
১. ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮,০৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ।
২. ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪,৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ।
সর্বমোট ১২,৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
​এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং পাচার কাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)। এছাড়া মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
​যেহেতু মূল ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায়, তাই চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দকৃত আলামত, ট্রাক এবং আটক আসামিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
​দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংকের সম্পত্তি এভাবে অবৈধভাবে পাচার করার সাথে জড়িত মূল হোতা ও বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে জোরদার তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ