ভারতে পাথর ভাঙার কষ্ট ভুলে দেশে পেঁপে চাষে তিন যুবকের জয়যাত্রা
দৈনিক বিজয় নিউজ বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তার দিন শেষ করে নিজ মাতৃভূমিতেই সফলতার মুখ দেখেছেন এক তরুণ। বিদেশের কঠিন অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে গ্রামের আরও দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে পেঁপে চাষ করে এলাকায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম (২৮)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজের সন্ধানে ২০১৯ সালে অবৈধ পথে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৫ নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল। সেখানে প্রায় তিন বছর টানা পাথর ভাঙার অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয় তাঁকে। বিদেশের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো পেছনে ফেলে দেশে ফিরে কৃষিতে নিজের ভাগ্য গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর বার্তা দেন স্বাবলম্বী হওয়ার। নিজের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করেন একই গ্রামের দুই রংমিস্ত্রি যুবক—মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলামকে (৩৮)। সারা বছর রঙের কাজ না থাকায় এ দুই যুবকও প্রায়ই বেকার সময় পার করছিলেন। পরে এই তিনজন একত্রিত হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে যৌথভাবে পেঁপে চাষে নামেন।
উদ্যোক্তারা জানান, সীমিত পুঁজি নিয়ে তাঁরা স্থানীয়ভাবে ৭০ শতক জমি লিজ নেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উপজেলার রাণীগঞ্জ থেকে শাহী জাতের চারা সংগ্রহ করে বাগানে রোপণ করেন। বর্তমানে তাঁদের বাগানে ৭০০টির বেশি সতেজ ও ফলন্ত পেঁপেগাছ রয়েছে। রোপণের প্রায় আট মাস পর থেকে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। ১০ মাস বয়সী এই বাগান থেকে এখন নিয়ম করে কাঁচা ও পাকা—দুই ধরনের পেঁপেই বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
হিসাব কষে জুয়েল ইসলাম জানান, ৭০ শতক জমিতে জমি লিজ ও চারা রোপণসহ মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে বাগান থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করা শেষ। বর্তমানে গাছে যে পরিমাণ ফলন রয়েছে, তা থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে জুয়েল বলেন, "অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে অন্যের অধীনে কষ্ট করার চেয়ে দেশের মাটিতে কাজ করা অনেক সম্মানের ও শান্তির। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে ২-৩ জন মিলে যৌথ উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। সঠিক পরিশ্রম করলে নিজ দেশেই ভালো কিছু করা সম্ভব।"
এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, "পেঁপে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও আশাব্যঞ্জক ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পেঁপে থেকে দ্রুত ভালো আয় সম্ভব। জুয়েল ও তাঁর সঙ্গীদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ আনোয়ার হোসেন