রাজশাহীতে ১০০ পূজামণ্ডপে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজশাহী বিভাগ এর মো. সাইফুল ইসলাম হীরকের অনুদান : সরেজমিনে গিয়ে প্রতিটি মণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১০০ টি পূজা মন্ডপে সহায়তা প্রদান, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় এক বিরল উদ্যোগ
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম হীরক। তাঁর একান্ত উদ্যোগে রাজশাহী জেলার তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার সর্বমোট ১০০টি পূজামণ্ডপে মোট পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে এ অনুদান দেওয়া হয়। সরেজমিনে পূজা মণ্ডপ গুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের হাতে তিনি এ সহায়তা তুলে দেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সহাবস্থানের চেতনা থেকে বিগত কয়েক বছর তিনি এ অনুদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে জানা গেছে। পূজামণ্ডপে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী উপেন্দ্রনাথ মণ্ডল, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি গোদাগাড়ী উপজেলা, তানোর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শামসুল আলম, তানোর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন এবং প্রতিবছর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজনে সহযোগিতার অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম হীরক ব্যক্তিগত অনুদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শুধু দুর্গাপূজার সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দির সংস্কার এবং অন্যান্য প্রয়োজনেও তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উৎসবকেন্দ্রিক কার্যক্রমে এ ধরনের সহায়তা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তানোর ও গোদাগাড়ী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন খেতুরী ধামও এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ যা হিন্দুদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত । সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর দুর্গাপূজার কয়েক দিন পর সেখানে প্রেম ভক্তি মহারাজ ঠাকুর শ্রী নরোত্তম দাস মহাশয়ের বিরোভাব প্রীতি স্মরণ মহোৎসব আয়োজন করা হয়। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ লোক অংশ নেন।আয়োজকদের দাবি, এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। চলতি বছরের ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবরও সেখানে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা রয়েছে। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষেও প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে,দুপুরে খাবার সরবরাহ, স্যালাইন, পানি, ঔষধ, ও নদী থেকে গোসলের পরে হিন্দু মহিলাদের কাপড় পরিধানের জন্য প্যান্ডেল নির্মাণ, ডাক্তারের ব্যবস্থা করা, প্রশাসনের ব্যক্তিদের বিশ্রামের স্থান তৈরি সহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা করে থাকেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে ও আনন্দঘন পরিবেশে পালনের অধিকার রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখা সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। এলাকাবাসী মনে করেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যক্তিগত সহযোগিতা শুধু উৎসব উদযাপনে সহায়ক নয়, বরং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তানোর ও গোদাগাড়ীর ১০০টি পূজামণ্ডপে অনুদান প্রদানকে স্থানীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পূজামণ্ডপগুলোতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের হাতে সহায়তা তুলে দেওয়ার বিষয়টি এ উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান