মাদকের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সমষপুরের জনতার গর্জন ও সাহসিকতাকে স্যালুট: কুমিল্লার ময়নামতিতে বাপ্পির আস্তানায় অভিযান, ১,০০০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল মালামাল জব্দ
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার ময়নামতি–বুড়িচংয়ের সাহেবের বাজার ও রাণী বাংলা রোড অঞ্চল আজ যেন এক উত্তাল জনপদের রূপ নিয়েছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া মাদকের মরণনেশা যখন তরুণ সমাজকে ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছিল, ঠিক সেই সংকটলগ্নে আলোর দিশারী হয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন দক্ষিণ সমষপুরের দামাল ও সচেতন জনতা। মাদক ব্যবসায়ীদের গড়া অপরাধের দুর্গ গুঁড়িয়ে দিতে এবং তাদের চোখরাঙানিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এলাকাবাসী যে অনমনীয় ঐক্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই ইতিহাস গড়ার মতো। অপরাধের বিরুদ্ধে জনতার এই রুখে দাঁড়ানোর দৃপ্ত প্রতিজ্ঞার প্রতি জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে রক্তিম স্যালুট ও গভীর শ্রদ্ধা। অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত অপরাধ চক্রের মূল আস্তানা হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত বাপ্পির বাড়িতে সম্প্রতি এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। বুড়িচং থানার অধীনস্থ দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির চৌকস কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুর নিজ দায়িত্বে অটল থেকে যে পেশাদারিত্ব, বিচক্ষণতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই অনন্য দৃষ্টান্ত। অপরাধ দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে তিনি যেভাবে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছেন, তা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা ও ভরসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনরোষ বা কোনো ধরনের ভয়ভীতিকে তোয়াক্কা না করে তাঁর এই অকুতোভয় নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১,০০০ পিস ইয়াবা।

শুধু মাদক উদ্ধারেই শেষ নয়; ওই বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে অপরাধের রমরমা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—অসংখ্য মোবাইল ফোন, পানির মোটর, বহুমূল্যবান হাতঘড়ি, মোটরসাইকেল এবং ধারালো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ছুরি। স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই অন্ধকার সাম্রাজ্য পরিচালনার পেছনে মূল হোতা বাপ্পির পাশাপাশি তার ভাই কলিমুল্লাহর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা পুরো এলাকায় রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘتیয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআই মঞ্জুরের মতো একজন দায়িত্ববান পুলিশ কর্মকর্তার এমন গতিশীল ভূমিকা পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গর্বের।
দক্ষিণ সমষপুরের জনতার প্রতি বিশেষ স্যালুট মাদকের কালো হাত ভেঙে দিতে দক্ষিণ সমষপুরের মানুষ যেভাবে দলমত নির্বিশেষে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা আজ বুড়িচং ও ময়নামতি ছাড়িয়ে পুরো কুমিল্লার মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতিই তাদের পিছু হটাতে পারেনি; বরং বুক চিতিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত করবে না এই জনপদ। একই সাথে, এসআই মঞ্জুর ও তাঁর পুরো পুলিশ টিমের সাহসিকতা এবং সত্য ঘটনা নির্ভয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংবাদকর্মীদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
আমাদের কঠোর দাবি ও সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা:
১. মূল শেকড় উৎপাটন ও নিরপেক্ষ তদন্ত: উদ্ধারকৃত মালামালের সঠিক হিসাব নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে থাকা গডফাদার ও পুরো সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. প্রভাবশালীদের ছাড় নয়: অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাবে যেন তাদের ছাড় দেওয়া না হয়—প্রশাসনের নিকট এটাই জনতার জোর দাবি।
৩. নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি: ময়নামতি, সাহেবের বাজার ও রাণী বাংলা রোডের প্রতিটি অলিগলিতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
মাদককে আজই চিরতরে 'না' বলুন, অপরাধের বিরুদ্ধে গড়ে তুলুন অটুট সামাজিক প্রতিরোধ। জনতার এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই হোক আগামী দিনের একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রধান হাতিয়ার।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ