টেকনাফের আত্নস্বীকৃত মাদক ডিলার ও অপহরণ চক্রের হারুন গং এবং ক্রেতা ইব্রাহীম গংয়ের নাটকীয়তায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া

টেকনাফের আত্নস্বীকৃত মাদক ডিলার ও অপহরণ চক্রের  হারুন গং এবং ক্রেতা ইব্রাহীম গংয়ের নাটকীয়তায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
ছবি: শামসুল আলম শারেক

দৈনিক বিজয় নিউজ টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মাসের গত ৯জুন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা দক্ষিণ আলীখালীর রাকিব উল্লাহরপুত্র ইব্রাহিম (২৮) কথিত প্রবাসীর ৪০লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছে মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইব্রাহিম কে ধররিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষনা কারী স্থানীয় আলীখালী এলাকার রশিদ মিয়ার পুত্র এবং ১০২জন আত্নস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ও ইয়াবা ডিলার মোঃ হারুন গং। পরে হারুন গত ১২ ই জুন তার স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও অপহরণ চক্রের  আরো প্রায় ১০/১২ জনের অস্ত্রধারী চক্রের সদস্যদের দিয়ে ইব্রাহীমকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন ও হুমকি ধামকি দিয়ে ৪০হাজার ইয়াবার পাওনা টাকা ৪০লক্ষ টাকা আদায়ের চেষ্টা চালায়। 

ইব্রাহীম ও তার স্বজনদের মাদকের টাকা পরিশোধ করার জন্য ১৭ লক্ষ টাকা মূল্যমানের পৈত্রিক সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তাতে ইব্রাহীম গং সম্মত হলেেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এদিকে ইব্রাহীম গংয়ের দাবী  ৪০ হাজার ইয়াবার মধ্যে ৩০ হাজার ইয়াবা মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীর হাতে জব্দ হয়। অবশিষ্ট ১০ হাজার ইয়াবার মান ভাল না হওয়ায় ৭০হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

প্রভাবশালী হারুনের কাছ থেকে ইয়াবা ক্রেতা ইব্রাহীম একটু গরীব ও অসহায় ছিল। যার কারণে মাদকের চালান ও নিরাপত্তার অভাবজনিত কারণে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ করার সাহস পায়নি। ইব্রাহীমের বড় বোন রশিদা গত ২৭ জুন  কিছু টাকা নগদ আর কিছু টাকা বকেয়া রেখে তার অপহৃত ভাই ইব্রাহীমকে উদ্ধার করতে গেলে লেদা ইবনে আব্বাস মাদ্রাসা সংলগ্ন জনৈক জাফরের দোকানের সামনে হতে হারুন গংয়ের সদস্যরা অপহরণ করে নিয়ে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়।  

নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে জনৈক সোর্সের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয়ের প্রকৃত ঘটনা অবগত হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদ কর্মীদের পাশাপাশি  অভিযুক্ত হারুন ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য বার বার যোগাযোগ করা হলে মাদকের ডিলার হারুন সন্দেহভাজন সোর্সকে ধরে এনে হুমকি-ধমকি দেওয়ার পর অপহৃত ভাই-বোনকে হাজির করে। 

৪০হাজার ইয়াবার বকেয়া আদায় বাবদ মোটাংকের টাকা আদায় করে লিখিত ডকুমেন্ট পত্র নেয়। এরপর ভিকটিম ইব্রাহীমকে অবৈধ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহৃত হয়নি এবং পাওনা টাকা মাদকের নয় বলে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। 

আত্নস্বীকৃত এই মাদক কারবারী হারুন মাদক চোরাচালানের রামরাজত্ব কায়েমের ফলে তার নেতৃত্বে  সৃষ্ট স্বশস্ত্র গ্রুপ ও পারিবারিক পেশীশক্তির কারণে বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আতাঁত করে পুরো এলাকায় অঘোষিত মাদকও অহরণ চক্রের  রাম রাজত্ব চালাচ্ছে। 

এই ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে  মাদক কান্ডে জড়িত ইয়াবা ডিলার হারুন ও ক্রেতা ইব্রাহীমসহ তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে উক্ত এলাকাকে  শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের বসবাস উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরে গোয়েন্দা নজরধারী বৃদ্ধি করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ শামসুল আলম শারেক