বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ স্যার! আপনারা আওয়ামী লীগের হাল ধরে সাধারণ কর্মী সমর্থকদেরকে রক্ষা করুন
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগনের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক! ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুর্ব বাংলার মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সৈয়দ শামসুল হক এর হাতে গড়া দেশে প্রবীন ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। পুর্ব বাংলার গন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের আশ্রয় স্থল ছিলো আওয়ামী লীগ। রাজনীতির আকাশে আওয়ামী লীগের অনেক অবদান আছে, রয়েছে বলে আমরা জানি। দলটির প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা অন্তরীণ অবস্থায় দলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও দলের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির প্রেক্ষিতে পরবর্তী কালে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন নেতৃত্ববৃন্দের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানা দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিম পাকিস্তানের বিমাতা সুলভ আচরন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্বপাকিস্তানের জনগনের মনে সব সময় ঘৃনা ভরা থাকতো। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুর্ব পাকিস্তানের উভয় পরিষদেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। জাতীয় পরিষদে ৩১৩ টি আসনের মধ্যে (পূর্বপাকিস্তানের ১৬৯টি আসন ছিল তার মধ্যে) ১৬৭ আসন পায় দলটি। প্রাদেশিক পরিষদে ৩০৯ টি আসনের মধ্যে ২৮২টি আসন লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী তাল বাহানা করে ক্ষমতা হস্তান্তরে। তারই ফলশ্রুতিতে ৭ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে(রেসকোর্স ময়দানে) ভাষন দেন।
শেখ মুজিবুর রহমান একজন নেতা হিসেবে তাঁর যৌবন কালের বেশির ভাগ সময়ই জেলে কাটিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ) ঘোষিত হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি,সৈয়দ নজরুল ইসলাম আস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন আহমেদ কে প্রধানমন্ত্রী করে প্রবাসী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১। প্রবাসী সরকার শফথ গ্রহণ করে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় ১৭ ই এপ্রিল ১৯৭১। দীর্ঘ নয় মাস রক্ত প্রান ক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ ও সম্ভ্রম খোয়ানো মুক্তিযুদ্ধ হয় আজকের এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দেশ স্বাধীন হয় বঙ্গবন্ধুর নামে ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গতাজ তাজ তাজ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, কামরুজ্জামান হেনা সহ অপরাপর নেতাদের পরিচালনায়। তারপরে অনেক কথা, কথার পিঠে কথা আছে। আপনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আপনি বঙ্গতাজ পুত্র তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। আপনাদের রক্তের মাঝে লুকিয়ে আছে শানিত চেতনা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবীত প্রান! বাংলাদেশের আপামর জনসাধারনের মধ্যে অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বা তারও বেশি জনতা আওয়ামী পাগল। তারা আজ সাধারণ ভোটার সহজ সরল কর্মী সমর্থক হওয়ায় আদর্শিক বিশ্বাসে আওয়ামীলীগ-কে ভোট দেওয়ায়, সমর্থন করায় ভীতিকর পরিবেশে দিনাতিপাত করছে।
আপনি বঙ্গবীর কে বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে কতটা ভালোবাসতেন তা মুরুব্বীদের মুখে শুনেছি! আপনি বঙ্গতাজ পুত্র, আপনার পিতা যে দেশ ও দলের জন্য নিজের স্বত্বা স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়েছেন সেই দল আওয়ামীলীগ। আপনারা দুই জন বাংলাদেশের সাধারণ জনগনকে ভালোবেসে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার, কর্মী, সমর্থকদের পাশে দাঁড়ান। তাদের চেতনা ও বিশ্বাস ভালোবাসা আদর্শকে সমুন্নত রাখুন। আপনারা দুর্নীতি গ্রস্থ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে বিদায় করে যথারীতি ত্যাগী মূল্যবোধ জাগ্রত দেশপ্রেমিক জনতা সাধারণ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আওয়ামীলীগের নৌকার হাল ধরুন। প্রকৃত গনতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী সমর্থক না থাকলে বিগত নির্বাচন গুলোর মতই ভোটার উপস্থিতি থাকবেনা! নির্বাচন হবে প্রশ্নবিদ্ধ আপনাদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে কেবল বাংলাদেশের সাধারণ জনগনের ভাগ্যের উপর থেকে নির্যাতন নিষ্প্রেষন নিগ্রহন থেকে রক্ষা করতে! যে জয় বাংলা স্লোগানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো! আজ সেই জয় বাংলা স্লোগান দিতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। অথচ বাঙ্গালি জাতি বীরের জাতি। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন এমপি মন্ত্রী সীমাহীন দুর্নীতি করেছে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট দুর্বৃত্তায়ন করেছে কিন্তু সাধারণ কর্মী সমর্থক আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারগনতো কোন অপরাধ বা দোষের কিছু করেনি! তবে কেনো এতোটা আতংকিত থাকবে! আপনারা দুজন সাধারণ কর্মী সমর্থক আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে গ্রহন যোগ্য মানুষ হিসেবে বরণীয়।
তাই আপনাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার কর্মী সমর্থকদের রক্ষা করতে হবে। আপনাদের একটু পরম স্নেহে বুলানো হাত ঢাল হিসেবে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে মানুষ হিসেবে। জয় বাংলা স্লোগান দিতেও তারা সাহস পাবে। বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান কে আমরা নিলজ্জ জাতি হিসেবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মুছে ফেলতে চেয়েছি। অস্বীকার করেছি এটা হয়তো আমাদের একদিন মনে পড়বে। আপনাদের দুই জনের প্রতি এখনও আওয়ামীলীগের সাধারণ কর্মী সমর্থক ভোটারদের আস্থা আছে। আপনারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কাঁধে নিয়ে সাধারণ কর্মী সমর্থক আওয়ামীলীগের ভোটারদের বাঁচানোর উদ্যোগ গ্রহন করবেন। বাংলাদেশের মানুষ এই মুহুর্তে আতংক থেকে বাঁচতে চায়! চায় সুস্থ ভাবে বাঁচতে ও নিজের বাক স্বাধীনতা অধিকার সমুন্নত রেখে! বিগত পনের/ষোল বছর স্বাধীন ভাবে কথা বলার অভ্যাসটা মাত্র এক সপ্তাহেই ক্ষীন হয়ে গেছে... বঙ্গবীর ও বঙ্গতাজ পুত্র আপনাদের উদারতা প্রদর্শনের সময় এসেছে তাই মহানুভবতা দিয়ে আপন করে নিন বর্তমানে অসহায় বাক স্বাধীনতাহীন মানুষ গুলোকে!
নচেৎ বিশ্বাসের মুল্যবোধ নামক শব্দটিই আর থাকবেনা এই সকল নৌকা পাগল মানুষের মনে চিত্তে হৃদয়ে
দৈনিক বিজয় নিউজ/ আকাশ