টেকনাফে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

টেকনাফে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
ছবি: শামসুল আলম শারেক

দৈনিক বিজয় নিউজ টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় যৌতুকে দাবিতে মারধরে লুলুয়ান মরজান হিরা (১৭)নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার পূর্ব সিকদারপাড়ার মাস্টার মীর কাশেমের মেয়ে। নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকে পাঁচলাখ টাকা যৌতুক দাবি করায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে মারধর করে আত্মহত্যা করেছে বলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে শশুর বাড়ির লোকজন। আজ বুধবার ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রোজারঘোনা এলাকার শশুর বাড়ি থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের নির্যাতনে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।হত্যার পর বিষয়টিকে তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বামীর পরিবারের লোকজন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,হ্নীলার মৌলভীবাজারের রোজারঘোনা এলাকার নুর আহাম্মদের ছেলে আব্বাস উদ্দিনের (২২) সঙ্গে একই ইউনিয়নের পূর্ব সিকদারপাড়ার মাস্টার মীর কাশেমের মেয়ে লুলুয়ান মরজান হিরা (১৭) প্রেমের সম্পক ছিল। একপর্যায়ে পরিবারের অজান্তে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন আব্বাস। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়াও হয়। এর জেরে মঙ্গলবার রাতেই স্বামী আব্বাস মরজানকে মারধর করেন। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মেঝ বোন আফরোজা আক্তার বলেন, স্বামীসহ শশুর বাড়ি লোকজন মিলে বিভিন্ন ধরনের নিযাতন ও মারধর করে মরজানকে হত্যা করেছে। এখন তারা বাঁচার জন্য আত্মহত্যা করেছে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  

মরজানের দুলাভাই নুরুল ইসলাম বলেন,‘মঙ্গলবার গভীর রাতে আব্বাসের বড় ভাই আমাকে ফোন দেয়। সে জানায় আমার শ্যালিকা আত্মহত্যা করেছেন। এরপর আজ বুধবার ভোররাতে নিহতের শশুর বাড়ি থেকে মরজানের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ আজ বুধবার ভোররাতে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। এরপর শশুর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

দৈনিক বিজয় নিউজ/ শামসুল আলম শারেক