"সংসার ধর্ম সকলের জন্য নয়"
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামটি অনাবিল সৌন্দর্য মন্ডিত ছবির মত অনন্য সুন্দর একটি গ্রাম। জামান তার পিতার সাথে সাক্ষাতের জন্য পাবনা থেকে সামটা গ্রামে যায়।জামানের পিতা উলাসী জিয়া খালে মাটি কাটা কাজের সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছে। জামানের পিতা পাবনা থেকে কিছু মাটি কাটা শ্রমিক সংগ্রহ করে খাল কাটা কাজের সংস্কার শুরু করেন। শার্শা উপজেলার কিছু লেবার (সামটা, হাড়িখালী) ও পাশ্ববর্তী তালা উপজেলার সেনেরগাঁতি, ফুলবাড়ী,সহ আশপাশের কিছু গ্রাম থেকে লেবার সংগ্রহ করে খাল কাটা কাজের গতি বৃদ্ধি করে। জামান পিতার সাক্ষাত লাভের পর পিতার আদেশ লাভের পর যদুনাথপুর খাল পাড়ে অবস্থিত একটি ভাঙ্গা ক্লাব ঘরে লেবারদের সাথে (খাওয়া দাওয়া ঘুমসহ) অবস্থান করে। এভাবে চলতে থাকে সপ্তাহ খানেক। হঠাৎ করে একদিন বিকেলে ঐ গ্রামের কিছু যুবকের সাথে পরিচয় ঘটে সেই সুত্র ধরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কয়েকজনের সঙ্গে। জামান রান্না করার জন্য কাঠ খড়ি, পাটকাঠি, খড় ক্রয় করতে মাঝে মধ্যে লেবার সরদারদের সাথে সামটা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে, পাড়ায় যাতায়াত করতেন। একদিন বিকেল বেলা চার/পাঁচ বছরের একটি ছেলে এসে জামানকে বলে ভাইয়া, ভাইয়া আমার মা আপনাকে ডাকছে।
শুনে জানান সেই ছেলেটির সঙ্গে গিয়ে দেখতে পায় যে, একজন ভদ্র মহিলা ঘরের বারান্দায় বসে আছেন। জামানঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আন্টি! ভদ্রমহিলা সালামের উত্তর দিয়ে জামানকে বারান্দায় বসতে দিয়ে বলেন যে, বাবা একটা কথা বলতে চাই যদি কিছু মনে না করেন? জামানঃ বলুন আন্টি কি বলতে চান? আন্টিঃ আপনার বাসা কোথায়, দেখে তো মনে হয়না আপনি জন খাটা মানুষ? যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আপনি আমাদের মাস্টারের ঘরে থাকবেন আর সময় পেলে আমার ছোট মেয়েটাকে একটু পড়াবেন! জামানঃ ঠিক আছে আন্টি, আমি আমার আব্বা ও বড় আব্বাকে বলে দেখি তারা কি বলেন। তখন জামান আন্টিকে সালাম দিয়ে ভাঙ্গা ক্লাব ঘরে ফিরে যায় এবং তার বড় আব্বাকে আন্টির প্রস্তাবের বিষয়ে খুলে বলে। সঙ্গে সঙ্গে তার বড় আব্বা জামানকে সঙ্গে নিয়ে কাঁথা-বালিশ ব্যাগ পত্রসহ মাস্টারের রুমে এসে উঠে পড়ে। জামানের বড় আব্বা আন্টিকে রান্না করে দিতে অনুরোধ করে রাজি করিয়ে ফেলেন। আন্টির হাতের সুস্বাদু রান্না খেতে খেতে চলতে থাকে এভাবেই কয়েক সপ্তাহ। জামান ধীরে ধীরে ঐ পরিবারের সকলের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। সময়ের অভাবে শর্ত মোতাবেক একদিনও আন্টির মেয়েকে পড়াতে পারেনি। আন্টির প্রতিবেশীদের সাথে জামানের অনেক মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বড় বড় মাছ, মুরগী রান্না করেও অনেক প্রতিবেশী জামানকে দাওয়াত করে খাওয়াতে পেরে খুশি হয়েছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এসএম এম আকাশ