টিএমএসএস : প্রচলিত এনজিও ধারণার বাইরে এক মানবিক আন্দোলন

টিএমএসএস : প্রচলিত এনজিও ধারণার বাইরে এক মানবিক আন্দোলন
ছবিঃ এম এ খালেক খান

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার কৃতি সন্তান, দেশের সমাজ পরিবর্তন ও নারী উন্নয়নের অগ্রদূত, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, প্রখ্যাত নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম প্রতিষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএসকে অনেকেই একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাস্তবতা হল টিএমএসএস কোনো প্রচলিত বা ‘টিপিক্যাল’ এনজিও নয়। সংস্থাটি সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সারা দেশেব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্ম, বিকাশ ও কর্মধারা বাংলাদেশের সাধারণ এনজিও কাঠামোর সঙ্গে মৌলিকভাবে ভিন্ন। এটি অতি দরিদ্র, ফকির-ফকিন্নী, অবহেলিত জনগোষ্ঠি ও শারীরিকভাবে অক্ষম কৃষি শ্রমিকদের দ্বারা ১৯৬৪ সালে যে সামাজিক উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, প্রায় পাঁচ দশক আগে তার পুনর্জন্ম ঘটে টিএমএসএস হিসেবে। জন্মলগ্ন থেকেই সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক, ক্ষমতাহীন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে টিএমএসএস-এর সাংগঠনিক কাঠামোতে এসেছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে এখানে শিক্ষিত, অভিজাত শ্রেণিভুক্ত কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থাপনায় জন্মলগ্নের সেই অক্ষম ও প্রতিবন্ধী শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। টিএমএসএস পরিচালন বিধান অনুযায়ী প্রতিটি ডোমেইনের নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। এই ডোমেইন ভিত্তিক স্বাধীনতাই একসময় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় জন্মলগ্নের সেই জাতীয় শ্রমিক শ্রেণির কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তির বিকল্প গড়ে তুলতে টিএমএসএস শ্রমিকদের সমন্বয়ে লেবার কন্ট্রাকটিং সোসাইটি গঠন করে। এই এলসিএস'র মাধ্যমে বর্তমানে গড়ে দুই সহস্রাধিক উপেক্ষিত ও অবহেলিত শ্রমিককে বছরব্যাপী আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে আসছে টিএমএসএস।

এলসিএস-এর আওতায় পরিচালিত কর্মসূচিগুলো মূলত সামাজিক সুরক্ষা ভিত্তিক হওয়ায় এখানে তুলনামূলক ভাবে অধিক ভর্তুকি দিতে হয়। এই কারণেই এলসিএস নামীয় বিভাগটিকে কোনো নির্দিষ্ট ডোমেইনের এখতিয়ারে দেওয়া বা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই বিভাগটি পরিচালিত হচ্ছে। জীবন সায়াহ্নে এসেও মানবসেবার প্রতিশ্রুতিতে অটল অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম। তিনি এই এলসিএস বিভাগটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন। সীমিত সম্পদ, জনবল ও প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও তিনি একান্ত কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত কর্ম নির্দেশনা, ওরিয়েন্টেশন ও তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে এলসিএস আজ কেবল একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়, বরং সমাজের অবহেলিত মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের একটি আশার নাম হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিএমএসএস'র এই উদ্যোগ সামাজিক উন্নয়নের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত, যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। অধ্যাপিকা ড.হোসনে আরা বেগম সেই সকল অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবন মানের সাথে নিজেকে মানিয়ে কর্মযঞ্জ পরিচালনা করছেন। সাধারণ মানুষ তার এমন বাস্তবতাকে তাদের জীবনে স্মরণীয় বলে মনে করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ড. হোসনে-আরা বেগমের এমন মানবিক কর্মকান্ড বগুড়ার মানুষ তথা সমগ্র দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান